অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

কক্সবাজার উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৬ আরসা সদস্য আটক

কক্সবাজার উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৬ আরসা সদস্য আটক।
কক্সবাজার উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবির থেকে ৬ আরসা সদস্য আটক।

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে অভিযান চালিয়ে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র (আরসা) ছয় সদস্যকে আটক করেছে বলে দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।বৃহষ্পতিবার (২৩ ফেব্রয়ারি) দিবাগত রাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ময়নার ঘোনা শিবির থেকে তাদের আটক করা হয়।

কক্সবাজারের র‌্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. আবু সালাম চৌধুরী জানিয়েছেন, “ময়নার ঘোনা শিবিরের রোহিঙ্গা আবুল ফয়েজ-এর দোকানের সামনে অস্ত্র-গুলিসহ আরসা সদস্যদের অবস্থানের খবর পেয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় আরসা’র সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করে আটক করা হয়।”

আটক আরসা সদস্যরা হলেন; মোহাম্মদ আরব (২৪), মোহাম্মদ নূর (৩১), মোহাম্মদ ইউনুছ (৩৩), হারুন (২৮), হাফিজুল আমিন (২৫) ও হামিদ হোসেন (২২)।

আবু সালাম চৌধুরী আরও বলেন যে তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আরবের কাছ থেকে দেশীয় বন্দুক ও অন্য দুই জনের কাছ থেকে তিনটি গুলি উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, শিবির এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে তারা সেখানে অবস্থান করছিল বলে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও র‌্যাব

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) মো. আনোয়ার লতিফ খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এক ঘোষণায় বেনজীর আহমেদ এবং র‍্যাব ৭–এর সাবেক অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দীন আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত। এতে বলা হয়েছে যে, তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুণ্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে, র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

This item is part of
XS
SM
MD
LG