প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব যে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তা মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি)-এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগণকে সহায়তা করে একটি ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে একসঙ্গে কাজ করার জন্য আহবান জানান।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল (ইকোসক)-এ ‘উন্নয়ন সহযোগিতা: দীর্ঘমেয়াদী সহনশীলতা এবং বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায়, রেকর্ড করা মূল বক্তব্যে একথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের একটি ঝুঁকি-অবহিত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে; যা বহুমাত্রিক দুর্বলতাকে বিবেচনা করে, লিঙ্গ সমতাকে উন্নীত করে, সামাজিক সুরক্ষাকে শক্তিশালী করে এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এমডিবি’স) মাধ্যমে রেয়াতি ঋণের প্রসার ঘটায়।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন যে একত্রে কাজ করে এবং এমডিবি-এর সম্পদ ও দক্ষতার ব্যবহার করে, আগামী প্রজন্মের জন্য আরো সহনশীল ও সমৃদ্ধ বিশ্ব তৈরির দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করা যেতে পারে। আসুন আমরা এমডিবি-এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগণকে সহায়তা করে একটি সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে একসঙ্গে কাজ করি।”
শেখ হাসিনা বলেন,“বিশ্ব অর্থনীতি এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; প্রথমে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এবং পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিস্ময়কর প্রভাবের কারণে। এই জটিল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব সম্প্রদায়ের দুর্বল অংশের সহনশীলতা তৈরি করতে এবং বহুমাত্রিক সংকট মোকাবেলায় উন্নয়ন সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, এটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা হয় যে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এমডিবি’র) গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন, “এমডিবি’র অর্থায়ন বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য বহু-দলীয় সংলাপকে উৎসাহিত করবে; যা ২০১৫ এর আদ্দিস আবাবা অ্যাকশন এজেন্ডায় নির্দিষ্ট করা ম্যান্ডেট অনুসারে এসডিজি অর্জনে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।”
তিনি বলেন, “এমডিবিগুলোকে বিশ্বব্যাপী জনসাধারণের পণ্য, যেমন স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির প্রচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এগুলো টেকসই উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। স্বল্পোন্নত দেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান প্রদানের জন্য এবং তাদের সক্ষমতা তৈরিতে এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করতে এমডিবিগুলো অনন্য অবস্থান রয়েছে।”
“উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সহনশীলতা তৈরিতে কাজ করার সময়, আমাদের অবশ্যই তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনা অন্বেষণ করার ক্ষমতা স্বীকার করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে; আর্থিক বৈষম্য, ডিজিটাল বিভাজন এবং উন্নয়ন বিভাজন। টেকসই এবং ন্যায়সঙ্গত উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সহনশীলতা তৈরিতে দৃষ্টিনিবদ্ধ করা উচিত;” উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখা যাচ্ছে এমডিবি’র সুদের হার ও সার্ভিস চার্জ বাড়ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরো কঠিন পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি এমডিবিগুলোর প্রতি একটি ঋণ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ঠিক করার আহ্বান জানান; যা আর্থিকভাবে কার্যকর এবং দুর্বল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করা। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ, উন্নত ও জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার চূড়ান্ত রূপকল্প নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”
“তবে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের উন্নয়ন যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের মতো দেশগুলোকে সংকট কাটিয়ে উঠতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত;” বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।