অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশের সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু জাপান—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়তে জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং একে সুযোগের দেশে পরিণত করবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, জাপান অতীতের মতো আমাদের পাশে থাকবে। আমি এও আত্মবিশ্বাসী যে, জাপানের জনগণ অতীতের মতো আমাদের প্রয়োজনে তাদের সরকারের পাশাপাশি সবসময় আমাদের পাশে থাকবে”।

বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মহান অবদানের জন্য টোকিওর আকাসাকা প্যালেস গেস্ট হাউসে চারজন জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিগত ৫০ বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং ঈর্ষণীয় অংশীদারত্ব আগামী বছরগুলোতে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বন্ধুদের কখনই ভুলি না”।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে জাপানের টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমর্থনের কথা স্বীকার করে বলেন, এই সহযোগিতা ও সমর্থন বাংলাদেশকে এলডিসি মর্যাদায় উন্নীত হয়ে একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে সহায়তা করেছে।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের সোনার বাংলা স্বপ্নে এবং বাংলাদেশকে সুযোগের দেশে পরিণত করতে আমরা নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছি”।

শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে জাপানের জনগণ বাংলাদেশের দুঃখী মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের কাছে জাপানের ৮ জন সম্মানিত ব্যক্তির একটি তালিকা ছিল যাদেরকে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ এবং ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর 'ফ্রেন্ড অব লিবারেশন ওয়ার অনার' দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আজ সন্ধ্যায় আমরা টোকিওতে রয়েছি বাংলাদেশের আরও চারজন জাপানি মহান বন্ধুকে সম্মান জানাতে, যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, নৈতিক ও বৈষয়িক সহায়তার আয়োজন করেছেন এবং সহায়তা নিশ্চিত করেছেন”।

তিনি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জাপানের জনগণের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বলেন, এটি নষ্ট করা যাবে না। “আপনারা আমাদের ন্যায়বিচার, সম্মান, মর্যাদা ও মানবাধিকারের আকাঙ্ক্ষা শুনেছেন। আপনাদের কণ্ঠস্বর আমাদের কণ্ঠে শক্তি যোগ করেছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বড় হয়েছে। আপনারা আমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সমাবেশ করেছেন এবং এক সঙ্গে একটি নির্মম শক্তির বিরুদ্ধে একটি মানব দুর্গ গড়ে তুলেছেন। উদীয়মান সূর্যের দেশে, আমরা মর্যাদা ও মানবতার সঙ্গে একটি জাতির প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই”।

তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের জনগণ নৃশংসতার প্রতিবাদে উঠে এসেছে এবং বাংলাদেশের অসহায় মানুষের জন্য মানবিক ত্রাণ, চিকিৎসা সুবিধা পাঠিয়েছে। ‘এটি ছিল দুঃখের সময় যা নিছক কথায় প্রকাশ করা যায় না। আমাদের দেশ (পাকিস্তানি) দখলদার বাহিনীর হাতে ধ্বংস হয়ে গেছে”।

সেই সংকটময় মুহূর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপানি বন্ধুরা আমাদের দুর্দশা বুঝতে পেরে মানবতার স্বার্থে এগিয়ে গেছেন। তারা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু পিছিয়ে যাননি”।

তিনি বলেন, “তাদের নিঃস্বার্থ আচরণ হুমকির মুখে আমাদের আত্মাকে পুনরুজ্জীবিত করেছে। সবচেয়ে অবিস্মরণীয় ছিল জাপানি স্কুলের শিশুদের দাতব্য কার্যক্রম যারা আমাদের লোকেদের সাহায্য করার জন্য তাদের টিফিনের অর্থ সঞ্চয় ও দান করেছিল”।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক জাপান সফর একটি অটল ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

“আমি আমার বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে আমাদের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ১৯৯৭, ২০১০, ২০১৪, ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে জাপান সফর করা আমার জন্য সম্মানের। আমি আজ খুশি যে, আমার মেয়াদে, আমাদের সময়-পরীক্ষিত বন্ধুত্ব একটি ব্যাপক অংশীদারত্ব থেকে কৌশলগত অংশীদারত্বে গভীরতা ও মাত্রায় বিকশিত হয়েছে”।

তিনি বলেন, সমতা, গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক চর্চা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও জাপান একই মহৎ ধারণা ও নীতির।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।

XS
SM
MD
LG