অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

নির্বাচনী মাঠ শূন্য করতে ‘পুরনো খেলা’ শুরু করেছে সরকার: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নির্বাচনী মাঠ শূন্য করতে সরকার আবার ‘পুরনো খেলা’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (৯ মে) দুপুরে গুলশানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই সরকার নির্বাচিত নয়, তাদের জনগণের ম্যান্ডেট নেই। আগামী ২৩ ডিসেম্বর অথবা ২৪ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেই নির্বাচন নিয়ে আবার সেই আগের খেলায় মেতে উঠেছে তারা।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা যেভাবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে সম্পূর্ণভাবে তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়েছিলো, ঠিক একই কায়দায় এখন থেকে বিরোধী দলকে সম্পূর্ণভাবে মাঠ থেকে সরে যাওয়ার জন্য তারা; (নির্বাচন নিয়ে যেটা আমরা বলি) ‘রিগিং প্রসেস দে স্টার্ট’; সেটা শুরু করে দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনে, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে, তফসিল ঘোষণার সময় থেকে তারা শুরু করেছিলো। এবার তারা অনেক আগে থেকে শুরু করেছে। মামলা-মোকদ্দমা, সন্ত্রাস-ত্রাস, বিভিন্ন আইনের মধ্য দিয়ে মিথ্যা মামলা ও গায়েবি মামলা করে আবারো নেতা-কর্মীদেরকে মাঠ থেকে পুরোপুরিভাবে সরিয়ে দেয়ার সেই কাজটি শুরু করে দিয়েছে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “তাদের (সরকার) লক্ষ্য হচ্ছে একটা নীলনকশার নির্বাচন করা। বিরোধী দলকে পুরো মাঠ থেকে বের করে দেয়া এবং এরপর সেই নীলনকশার নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসা; এটাই হচ্ছে মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই তারা কাজ করছে।”

এবার কি পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “একেবারেই পারবে না। কারণ এবার জনগণ ইতোমধ্যে রাস্তায় নেমেছে, জনগণ আন্দোলন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আপনারা জানেন যে, আমাদের ১৭ জন মানুষ এই আন্দোলনে রাজপথে প্রাণ হারিয়েছে, আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া আন্দোলন চলমান আছে, এই আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন আরো বেগবান হবে, আরো তীব্র হবে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকার বাধ্য হবে জনগণের দাবি মেনে নিতে।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আন্দোলন একটা ওয়েভের মতো। এটা কখনো ওঠে, কখনো নামে। সেটা জনগণের সব পরিপ্রেক্ষিত বুঝে নিয়ে আমাদেরকে আন্দোলনটা করতে হয়।” তিনি বলেন, “এখন যারা আন্দোলনের অংশীদার আছেন, শরিক দলগুলো আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা চূড়ান্ত আলোচনার পর্যায়ে এসেছি। খুব শিগগিরই নতুন কর্মসূচি জানতে পারবেন।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “শুধুমাত্র বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, তা নয়। যে সব মিথ্যা মামলা অতীতে তারা দিয়েছিলো সেই মিথ্যা মামলাগুলোর চূড়ান্তভাবে রায় দেয়ার জন্যে তারা খুব দ্রুততার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটা তালিকা প্রস্তুত করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী, বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে, তারা এগিয়ে যাচ্ছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এছাড়া গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে তারা (সরকার) এখন ব্যবহার করতে শুরু করেছে। ইনক্লুডিং জুডিশিয়ারি এন্ড এডমিনিস্ট্রেশন; কিভাবে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং যারা এই চলমান আন্দোলনে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদেরকে কিভাবে মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়া যায়, সে লক্ষ্যে তারা কাজ করছে।”

“সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে এক লাখ ১১ হাজার ৫৪৩টির অধিক মামলা দায়ের করেছে এই অবৈধ সরকার। অভিযুক্ত সংখ্যা ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮১ এর অধিক। এর মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে দুই হাজার ৮৩০ এর অধিক মামলা রয়েছে। ঢাকাতেই আছে এক হাজার ৫০০ মামলা। বিরোধী মত ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মুক্ত মত প্রকাশের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছে; উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আপনারা (সাংবাদিকরা) কি তাদের ( আ্ওয়ামী লীগ) বিশ্বাস করেন? ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করে আমরা তার সঙ্গে সংলাপে বসেছিলাম। সেই সংলাপে যেসব কথা তিনি দিয়েছিলেন সেগুলোর একটাও রক্ষা করেননি। সুতরাং ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় আস্থা রাখা, বিশ্বাস করা; এটার প্রশ্নই উঠতে পারে না।”

তিনি বলেন, “এগুলোকে আমি মনে করি, আরেকটি চক্রান্ত, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তারা বলবে যে এই তো আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, ওরা শুনছে না, যাচ্ছে না। আমাদের কথা খুব পরিস্কার; আমরা বিএনপিকে ক্ষমতায় নেয়া বা বিরোধী দলকে ক্ষমতায় নেয়া, এজন্য আন্দোলন করছি না। আমাদের জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, মানুষ যেন ভোট দিতে পারে, সেটা্ আমাদের লক্ষ্য। গত দুই নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও তারা ভোট দিতে পারে না।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমরা না করলেও আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন, বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে তারা। গাজীপুরে একটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেও বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। একতরফা বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন করছে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইসের সঙ্গে সোমবার বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা কাউকে কোনো নালিশ করি না, আমরা কাউকে কিছু বলতে যাই না। এটা মনে রাখতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এখানে বিদেশি যে মিশনগুলো আছে অথবা যারা কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে রুটিন আলোচনা হয়, সেই আলোচনা হয়েছে।”

ওদিকে আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটকে ভোট না দেয়ার জন্য আবারো আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (৭ মে) লন্ডন ম্যারিয়ট হোটেলে যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া নাগরিক সংবর্ধনায় এ আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (বিএনপি-জামায়াত) শুধু দেশ ধ্বংস করবে, আর কিছু নয়। তাই বিএনপি-জামায়াত যেন আবার ক্ষমতায় না আসে, তা নিশ্চিত করুন।” তিনি বলেন, “বিএনপি-জামায়াত জোট খুনি, চোর ও দুর্নীতিবাজ-দের দল মাত্র। সুতরাং জনগণকে সতর্ক থাকা উচিত এবং তাদের পক্ষে ভোট দেয়া উচিত নয়।”

আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ জনগণ আগামী নির্বাচনে আমাদের ভোট দিয়ে আরো একবার ক্ষমতায় বসাবে।”

XS
SM
MD
LG