অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পাকিস্তানে ২০২২ সালের বন্যারপরও লক্ষ লক্ষ শিশুর সাহায্য প্রয়োজন: ইউনিসেফ 

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পাকপত্তন জেলার বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধারকর্মীরা গ্রামবাসীদের নৌকা করে সরিয়ে নিচ্ছেন।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পাকপত্তন জেলার বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধারকর্মীরা গ্রামবাসীদের নৌকা করে সরিয়ে নিচ্ছেন।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা শুক্রবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছে,পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার এক বছর পরেও আনুমানিক ৪০ লাখ শিশুর মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়। তহবিল ঘাটতির কারণে এবং জরুরি পরিষেবা পাওয়ায় বাধা থাকায় পুনরুদ্ধারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

ইউনিসেফ পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা ঘোষণা করা হয়েছে, যখন পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের কর্তৃপক্ষ সতলেজ নদীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আগস্ট মাসের ১ তারিখ থেকে উদ্ধারকর্মীরা কাসুর ও বাহাওয়ালপুর জেলার বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এক লক্ষেরও বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে জেনেভায় জাতিসংঘের উদ্যোগেঅনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে কয়েক ডজন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পাকিস্তানকে গত গ্রীষ্মের বন্যা থেকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে ৯০০ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে বেশিরভাগ অঙ্গীকার ঋণ আকারে প্রকল্পের জন্য দেওয়ার কথা ছিল যা এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়ে গেছে।

ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে বলেছে ,“চলতি মৌসুমের মৌসুমি বৃষ্টিপাত বন্যাকবলিত জনগোষ্ঠীর জন্য ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করছে এবং সারা দেশে মর্মান্তিকভাবে ৮৭জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

ঐ বিবৃতে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকায় আনুমানিক ৮০ লাখ মানুষ যার প্রায় অর্ধেকই শিশু নিরাপদ পানির অভাবে রয়েছে।এতে আরও বলা হয়, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে ১৫ লাখেরও বেশি শিশুর জীবন রক্ষাকারী পুষ্টির প্রয়োজন। ইউনিসেফ বর্তমান ১৭ কোটি ৩৫ লাখ ডলার অর্থ সাহায্যের আবেদন করলেও মাত্র ৫৭ শতাংশ অর্থায়ন পাওয়া গেছে।

গত বছরের বন্যায় পাকিস্তানে বিস্তীর্ণ অংশ কয়েক মাস ধরে পানির নিচে থাকায় দেশটিতে ৩হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ঐ বন্যায় ৩কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ১,৭৩৯ জন মারা গিয়েছিল। বন্যায় ৩০ হাজার স্কুল, ২ হাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৪,৩০০পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG