মঙ্গলবার ফিলিপাইন সরকার এবং কমিউনিস্ট বিদ্রোহীরা বলেছে, তারা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘতম মাওবাদী বিদ্রোহের অবসান ঘটাতে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে চলমান সশস্ত্র সংগ্রাম ১৯৬৯ সালে শুরু হয়েছিল, ফিলিপাইনের ধনী-দরিদ্রের তীব্র বিভাজনের মধ্যে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।
১৯৮০’র দশকে তীব্র আন্দোলনের সময় দলটি প্রায় ২৬ হাজার যোদ্ধা নিয়ে গর্ব করতো, সেনাবাহিনী বলেছে, সেই সংখ্যা এখন দুই হাজারের কম।
কয়েকটি ফিলিপাইন প্রশাসন তাদের নেদারল্যান্ডস-ভিত্তিক রাজনৈতিক শাখা ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর মাধ্যমে কমিউনিস্টদের সাথে শান্তি আলোচনা করেছে।
কর্মকর্তারা ম্যানিলায় সাংবাদিকদের বলেন, সর্বসাম্প্রতিক এই প্রচেষ্টাটি নেদারল্যান্ডস এবং নরওয়েতে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পর হচ্ছে। এই আলোচনা ২০২২ সালে শুরু হয়েছিল এবং নরওয়েজিয়ান সরকার এই আলোচনায় সহায়তা করেছিল।
তবে তিনি বলেন, একটি “চূড়ান্ত চুক্তি” না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী ফিলিপাইনের কমিউনিস্ট পার্টির সশস্ত্র শাখা “নিউ পিপলস আর্মির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চালিয়ে যাবে।”
বিদ্রোহের সূচনাকারী জোসে মারিয়া সিসন নেদারল্যান্ডসে স্বেচ্ছা নির্বাসনে মারা যাওয়ার প্রায় এক বছর পর এই ঘোষণা আসে।
এনডিএফ জানিয়েছে, আলোচনা পরের বছর শুরু হবে তবে নির্দিষ্ট তারিখ এবং স্থানের ব্যাপারে এখনো আলোচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিপাইন সরকার দাবি করেছে, শত শত কমিউনিস্ট বিদ্রোহী আর্থিক সহায়তা এবং জীবিকার সুযোগের বিনিময়ে আত্মসমর্পণ করেছে।
দেশটির কিছু অংশে এখনো প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চল অপহরণের জন্য মুক্তিপণ গোষ্ঠী এবং ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দ্বারা জর্জরিত।