অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

টিআইবির গবেষণা: গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো


বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি। প্রতীকী ছবি।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি। প্রতীকী ছবি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) অনুদানের ক্ষেত্রে, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর চেয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে; যা এর মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এ কারণে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানী ঢাকার মাইডাস সেন্টারে, অ্যাকসসেসিং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) ফর ভালনারেবল কান্ট্রিজ অ্যাজ বাংলাদেশ: গভর্ন্যান্স চ্যালেঞ্জস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইব। এ সময় এমন অভিযোগ করা হয়।

উন্নত দেশগুলো থেকে অপর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর অনুদানের পরিবর্তে ঋণ আরোপসহ গত ১২ বছরে দায়িত্ব পালনে জিসিএফ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করে টিআইবি।

গত ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় গুণগত ও পরিমাণগত উভয় পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে। জিসিএফ-এর কঠোর শর্তের সমালোচনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর তহবিল পাওয়া প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, জিসিএফ তার নিজের নীতিগুলো মেনে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে তহবিল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হয়েছে। আর, উপযুক্ত প্রাপকদের জন্য অনুদানের পরিমাণ অপর্যাপ্ত।

ইউএনডিপি, আইডিবি, এডিবি এবং ইবিআরডির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি জিসিএফ-এর পক্ষপাতমূলক আচরণকে অগ্রহণযোগ্য ও জিসিএফ মিশনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি অনুদানের চেয়ে ঋণের ক্ষেত্রে সমস্যাযুক্ত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। বলেন, এই প্রবনতা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, জিসিএফ’র স্বীকৃতি প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময় সাপেক্ষ; যা বাংলাদেশের মতো দুর্বল দেশগুলোকে সরাসরি তহবিল প্রাপ্তিতে বাধা দিচ্ছে। জিসিএফ সুষম ৫০:৫০ তহবিল অনুপাত অর্জন করতে, বা এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

সংস্থাটি আরো বলেছে, ২১, ৫০০ থেকে ৩৮, ৭০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অভিযোজনের জন্য মাত্র ৫৯০ কোটি ডলার দিয়েছে জিসিএফ।

গবেষণায় অনুদানের তুলনায় ঋণ বৃদ্ধির উদ্বেগজনক প্রবণতা উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে, ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ অর্থায়নের ৪০ দশমিক ৬ শতাংশই জিসিএফের ঋণ। যা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর আর্থিক চাপ যোগ করছে; জানায় টিআইবি।

টিআইবি বলেছে, বাংলাদেশের জন্য জাতীয় মনোনীত কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) নির্বাচন, স্বচ্ছতা এবং স্পষ্ট নীতির অভাবের কারণে সমালোচিত হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য স্বীকৃতি প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যহারে বিলম্ব দেখেছে। চারটি সংস্থা পাঁচ বছরের চেষ্টার পরও স্বীকৃতি পায়নি। জিসিএফ সচিবালয়ের অপর্যাপ্ত সহায়তার কারণে একটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের জন্য দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।

জিসিএফ প্রকল্পের অর্থায়ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে বাংলাদেশ তার জলবায়ু প্রয়োজনের জন্য অপর্যাপ্ত তহবিল পেয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রয়োজনীয় ১,২০০ কোটি ডলারের মধ্যে মাত্র ১১৮ কোটি ডলার (৯ দশমিক ৯ শতাংশ) বিভিন্ন উৎস থেকে অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া, জিসিএফ রেডিনেসসহ বাংলাদেশের জন্য মোট তহবিল অনুমোদন করেছে ৪৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার, যা প্রয়োজনীয় মোট অর্থের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

টিআইবি আরো বলেছে; জিসিএফ থেকে প্রশমন প্রকল্পের জন্য ২৫ কোটি ৬৪ লাখ ডলার (৭৬ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং অভিযোজন প্রকল্পের জন্য ৭ কোটি ৬৮ ণাখ ডলার (২৩ দশমিক ১ শতাংশ) বরাদ্দ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ ঋণ এবং ২৫ শতাংশ অনুদান। বাংলাদেশের ৯টি জিসিএফ প্রকল্পের জন্য ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ তহবিল ছাড় করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ৩ বছর পর ছাড় করা হয়।

XS
SM
MD
LG