অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মিয়ানমারের জান্তা সাধারণ ক্ষমার আওতায় ৬ হাজারেরও বেশি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের ইনসেইন কারাগারের বাইরে পরিবারের সদস্যরা এবং সহকর্মীরা স্বাগত জানাচ্ছেন, ৪ জানুয়ারী, ২০২৫।
মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের ইনসেইন কারাগারের বাইরে পরিবারের সদস্যরা এবং সহকর্মীরা স্বাগত জানাচ্ছেন, ৪ জানুয়ারী, ২০২৫।

শনিবার ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার ৭৭ তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি সাধারণ গণ-ক্ষমার অংশ হিসাবে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ৬,০০০ জনেরও বেশি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং অন্যান্য বন্দির সাজা কমিয়ে দিয়েছে।

এই বন্দীরা হলেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকার অং সান সুচির কাছ থেকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে সেনা শাসনের বিরোধিতা করার জন্য কারাগারে বন্দী শত শত রাজনৈতিক বন্দীদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সেই ক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে ব্যাপক অহিংস প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে একটি বিস্তৃত সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালিত এমআরটিভি টেলিভিশন জানায়, সামরিক সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের ৫,৮৬৪ জন বন্দীকে এবং সেইসাথে ১৮০ বিদেশীকে সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন। বিদেশী বন্দীদের নির্বাসিত করা হবে। মিয়ানমারে ছুটির দিন এবং অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপলক্ষ্যগুলোতে বন্দিদের গণ-মুক্তি দেওয়া সাধারণ ঘটনা।

মুক্তির শর্তে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, যদি মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীরা আবার আইন লঙ্ঘন করেন, তবে তাদের মূল শাস্তির বাকি অংশ সহ নতুন যে কোনো শাস্তি গ্রহণ করতে হবে।

একটি পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিন অং হ্লাইং ১৪৪ জন বন্দীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে কমিয়ে ১৫ বছরের কারাদণ্ডে পরিণত করেছেন। প্রতিবেদনে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অন্যান্য সকল বন্দীর শাস্তি এক-ষষ্ঠাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে। তবে যারা বিস্ফোরক পদার্থ আইন, অবৈধ সংগঠন আইন, অস্ত্র আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দোষী সাব্যস্ত, তাদের শাস্তি কমানো হবে না। এই সকল আইন প্রায়শই সামরিক শাসনের বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়।

সামরিক সরকারের মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন এক অডিও নোটে সাংবাদিকদের জানান, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন রয়েছে যারা মিয়ানমারের দণ্ডবিধির ৫০৫(এ) ধারায় অভিযুক্ত, যা জনসাধারণের মধ্যে অস্থিরতা বা আতংক সৃষ্টি করা বা মিথ্যা সংবাদ প্রচার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

তিনি বলেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কাচিন রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী খেত অংও রয়েছেন। খেত অংকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পরপরই গ্রেফতার করে এবং তাকে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে দুর্নীতির অভিযোগে ১২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

জাও মিন তুন আরও বলেন, মুক্তিপ্রাপ্ত অধিকাংশ বিদেশি হলেন থাই নাগরিক, যারা মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত শহর তাচিলেকে জুয়া খেলার জন্য গ্রেপ্তার হন। তিনি বলেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে মিয়ানমারের আঞ্চলিক জলসীমায় মাছ ধরার জন্য গ্রেফতারকৃত ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন।

তবে তিনি উল্লেখ করেননি যে নভেম্বরে শেষের দিকে তাদের সামুদ্রিক সীমান্তের কাছে আন্দামান সাগরে থাই মাছ ধরার জাহাজগুলিতে টহল বোটগুলি গুলি চালানোর পরে মিয়ানমারের নৌবাহিনী যে চারজন থাই জেলেকে গ্রেপ্তার করে, তারা মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে আছে কিনা। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে তিনি আশা করছেন তাদের চারজনকে স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি দেওয়া হবে।

শনিবার থেকে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া শুরু হলেও শেষ হতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। দেশের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে বাসগুলি ইনসেইন কারাগার থেকে বন্দীদের প্রায় ১১:৩০ টায় বের করে নিয়ে যায়, যেখানে আটক ব্যক্তিদের বন্ধু ও পরিবার সদস্যরা সকাল থেকেই ঘোষিত মুক্তিপ্রাপ্তদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

বন্দী মুক্তির মধ্যে অং সান সুচিকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো ইঙ্গিত ছিল না। তিনি সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রায় পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

৭৯ বছর বয়সী অং সান সুচি সামরিক বাহিনী কর্তৃক আনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অনুযায়ী ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

তার সমর্থক এবং স্বাধীন বিশ্লেষকরা বলেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলি তাকে অসম্মান করার এবং সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুত নির্বাচনে তাকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রেখে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। নির্বাচনের জন্য এখনও কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

একটি অধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস-এর মতে, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে রাজনৈতিক অভিযোগে ২৮,০৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এএপিপি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ২১,৮৯৯ জন এখনও বন্দী। সংস্থাটি বলছে, একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৬,১০৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই তালিকায় যুদ্ধে সংঘটিত সকল হতাহতের সংখ্যা অন্তর্ভুক্ত নয়।

মিয়ানমার ১৯ শতকের শেষ দিকে একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয় এবং ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী দেশটি আবার স্বাধীনতা ফিরে পায়।

রাজধানী নাইপিতাওতে, মিয়ানমারের সামরিক সরকার সিটি হলে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বার্ষিকী উদযাপন করে।

This item is part of
XS
SM
MD
LG