অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘে ভোটের পর যুক্তরাষ্ট্রের “আরও ভারসাম্যপূর্ণ” অবস্থানের প্রশংসা করেছে রাশিয়া

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তৃতীয় বার্ষিকীতে সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশনের খসড়া প্রস্তাব সভায় ভোটের ফলাফল দেখানো হয়। (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তৃতীয় বার্ষিকীতে সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশনের খসড়া প্রস্তাব সভায় ভোটের ফলাফল দেখানো হয়। (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)

ব্রিটেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের মৌখিক আপত্তি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে “শান্তির পথ” প্রস্তাব পাস করে। ক্রেমলিন মঙ্গলবার ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে “আরও ভারসাম্যপূর্ণ” মন্তব্য করে স্বাগত জানিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান “ সমাধানে অবদান রাখার সত্যিকারের ইচ্ছাই” প্রকাশ করে।

চার লাইনের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করে।

এতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ সমাধান করা।

বিবৃতিতে দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে , ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের দূত ডরোথি শিয়া বলেন, “এই প্রস্তাব আমাদের শান্তির পথে নিয়ে যাবে। যদিও এটি প্রথম পদক্ষেপ, তবে ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ – যার জন্য আমাদের সবারই গর্বিত হওয়া উচিত। ইউক্রেন, রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আমাদের অবশ্যই এটি কাজে লাগাতে হবে।”

এই অবস্থানের পক্ষে ভোট পড়ে ১০টি। রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেয়। ব্রিটেন ও কাউন্সিলের চার ইউরোপীয় সদস্য ভোটদানে বিরত থাকে। তবে কোনো সদস্যই এর বিপক্ষে ভোট দেননি।

যদিও ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভোট স্থগিত করার ব্যর্থ চেষ্টা করে। পরে দেশ দুটি ডেনমার্ক, গ্রিস ও স্লোভেনিয়াকে সাথে নিয়ে “রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত'” শব্দটির পরিবর্তে “রাশিয়ান ফেডারেশন কর্তৃক ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন” শব্দটি প্রতিস্থাপনসহ যুক্তরাষ্ট্রের পাঠ্যে সংশোধনী দাবী করে।

ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে দেশগুলো "ন্যায়সঙ্গত, দীর্ঘস্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির" জন্য উপযুক্ত ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার দাবী তুলে তারা।

ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস ডি রিভিয়ের বলেন, “যদিও ইউক্রেনে শান্তি আনার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমরা ব্যাপক, ন্যায়সঙ্গত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তির আহ্বান জানাচ্ছি এবং যা অবশ্যই ভুক্তভোগীকে আত্মসমর্পণ করার উদ্দেশ্যে নয়।”

ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত বারবারা উডওয়ার্ড বলেছেন, শান্তির শর্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন “শুধুমাত্র ন্যায়সঙ্গত শান্তিই টিকে থাকবে, যা আমাদের [জাতিসংঘ] সনদের নীতিমালা অনুসরণ করে। শান্তির শর্তগুলো এমন হতে হবে, যা বার্তা দেয় যে আগ্রাসন ফলপ্রসু হবে না।”

রাশিয়ার প্রস্তাবিত তাদের নিজস্ব দুটি সংশোধনী হলো - সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে তারা যা দেখছে তা এবং যুদ্ধকে লঘু ভাষা ব্যবহারে গুরুত্বহীন করে দেয়া ।

যুক্তরাষ্ট্রের পাঠ্য সংশোধন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়, অপর্যাপ্ত কাউন্সিলের সমর্থনের কারণে অথবা দুটি ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভেটোর কারণে। ওয়াশিংটন সংশোধনী ভোট দানে বিরত ছিল।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে সাধারণ পরিষদে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোট হয়। এরপর নিরাপত্তা পরিষদে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রতিটি প্রস্তাব সামান্য ব্যবধানে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হয়।

তবে, সংঘাতের ধরন ও তার সমাধান নিয়ে ভাষার ব্যবহারে ওয়াশিংটন মিত্র ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একমত হয়নি।

This item is part of
XS
SM
MD
LG