অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তান থেকে বিদায় নিল নারী ফুটবলাররা


আফগান মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা কাবুলের আফগানিস্তান ফুটবল ফেডারেশন (এএফএফ) স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচে খেলছে

আফগানিস্তানের মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা মঙ্গলবার একটি "গুরুত্বপূর্ণ বিজয়" লাভ করে। তবে এই বিজয় কোন খেলায় নয়, নিরাপত্তাহিনতায় থাকা ৭৫ সদস্যের ওই দলটি ওইদিন কাবুল থেকে একটি উদ্ধারকারী বিমানে সে দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে উড়াল দিতে সক্ষম হয়।

খেলোয়াড়, দলের কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আফগানিস্তান ছাড়তে সাহায্য করার জন্য এবং আরও সাহায্য অব্যাহত রাখার জন্য, অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে গ্লোবাল সকার প্লেয়ার্স ইউনিয়ন, এফআইএফপিআরও।

আফগান মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরা (লাল জার্সি পরা) কাবুলের আইএসএএফ সদর দপ্তরে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের জন্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) মহিলা দলের সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবির জন্য পোজ দিচ্ছে।
আফগান মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যরা (লাল জার্সি পরা) কাবুলের আইএসএএফ সদর দপ্তরে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের জন্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) মহিলা দলের সঙ্গে একটি গ্রুপ ছবির জন্য পোজ দিচ্ছে।

ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে বলেছে, “ক্রীড়াবিদ এবং কর্মী হিসেবে বিপদগ্রস্ত এই তরুণীদের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য বিশ্বব্যাপী তাদের সহকর্মীদের পক্ষ থেকে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি”।

২০০৭ সালে আফগান ওই দলটি গঠিত হয়। সেই সময় আফগানিস্তানে খেলাধুলা করা মহিলাদের তালিবান শাসক গোষ্ঠী রাজনৈতিক বিরোধীতা হিসেবে মনে করতো।

যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত আফগানিস্তান সরকারের পতনের পর, সম্ভাব্য প্রতিশোধ এড়াতে, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সবরকম পোস্ট এবং তাদের ছবি মুছে ফেলার জন্য খেলোয়াড়দের পরামর্শ দেওয়া হয়।

খালিদা পোপাল, মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক
খালিদা পোপাল, মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক

দলের সাবেক অধিনায়ক খালিদা পোপাল বলেন, “গত কয়েক দিন অত্যন্ত চাপের মধ্যে ছিলাম। তবে আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেছি”।

পোপালসহ গ্লোবাল সকার প্লেয়ার্স ইউনিয়নের আইনজীবী এবং উপদেষ্টাদের একটি দল অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ ছয়টি দেশের কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করেছে। তারা ক্রীড়াবিদ এবং তাদের পরিবারগুলির একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে, যাতে করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, আফগানিস্তান থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায়।

পপাল বলেন, “নারী ফুটবলাররা সংকটের মুহূর্তে সাহসী এবং শক্তিশালী থেকেছে এবং আমরা আশা করি, তারা আফগানিস্তানের বাইরে আরও ভাল একটা জীবন পাবে”।

আফগানিস্তান থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে মাদ্রিদের টরেজোন সামরিক ঘাঁটিতে একটি বিমান থেকে নামার পর উদ্ধারকৃত আফগান নাগরিক।
আফগানিস্তান থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে মাদ্রিদের টরেজোন সামরিক ঘাঁটিতে একটি বিমান থেকে নামার পর উদ্ধারকৃত আফগান নাগরিক।

এফআইএফপিআরও’র সাধারণ সম্পাদক জোনাস বেয়ার-হফম্যান বলেন, তাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজটা ছিল “একটি অবিশ্বাস্যভাবে জটিল প্রক্রিয়া”।

তিনি বলেন, “আমরা তাদেরকে আন্তরিক ভাবে অনুভব করছি , যারা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশে আটকে রয়েছে”।

XS
SM
MD
LG