অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নিয়ে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলি উদ্বিগ্নঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এটি নিরাপদ


সম্প্রতি নরওয়েতে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে একজনের মৃত্যু ও তিনজন হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়ার পর অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য প্রতিকূল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে এই টিকা কর্মসূচির কার্যক্রম বন্ধ করতে জার্মানি, ফ্রান্স এবং ইতালি সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও বেশ কয়েকটি সদস্য দেশ যোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে ভিওএর সংবাদদাতা হেনরি রিজওয়েলের প্রতিবেদন থেকে জয়তী দাশগুপ্ত জানাচ্ছেন যে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন নিয়ে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলির যথেষ্ট উদ্বেগ থাকলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এটি নিরাপদ।

জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্পাহান বলেন, "আমাদের আজকের সিদ্ধান্তটি প্রকৃতপক্ষে একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।" শনিবার নরওয়েতে যে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ থেকে একজন ব্যক্তি মারা গিয়েছেন এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই রক্ত জমাট বেধে যাওয়ার কারণে আরও তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকের এই ঘোষণা। নরওয়েজিয়ান মেডিসিন সংস্থার চিফ ফিজিশিয়ান সিগুর্ড হর্তেমো বলেন, "এই ঘটনা ভ্যাকসিনের সাথে সংযুক্ত কিনা তা নিয়ে এখনই আমরা কিছু বলতে চাই না, তবে এই ঘটনা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা এটি পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে তদন্ত করছি।"

ইউরোপের বাইরের কঙ্গো এবং ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশও অ্যাস্ট্রাজেনিকা টিকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে, অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভ্যাকসিনের সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার কোন যোগসূত্র আছে, এরকম কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় নি, সুতরাং দেশগুলিকে এই টিকার ব্যবহার চালিয়ে যেতে বলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ডাক্তার সৌম্য স্বামীনাথন বলেন, “৩০ কোটি ৩০ লক্ষ টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তার মধ্যে আমরা কোভিড ভ্যাকসিন সম্পর্কিত কোনও মৃত্যুর বিষয়ে অবগত নই। মানুষ টিকা দেওয়ার পরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তবে শুধু টিকার জন্য নয়, মানুষ বিভিন্ন রোগেও প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। ”

ইউরোপের ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ যারা এই ভ্যাকসিন পেয়েছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা বলেছে যে ৪০ জনেরও কম মানুষের শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা গেছে।এই ভ্যাকসিন অনেক দেশের গণ টিকা কার্যক্রমগুলির মূল স্তম্ভ। এটি তুলনামূলক কম খরচে নেওয়া সম্ভব এবং এই ভ্যাকসিনকে অতি-স্বল্প তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করারও কোন প্রয়োজন নেই। শুক্রবার নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যকর্মীরা অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন গ্রহণ শুরু করেছেন। লাগোসের রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনার আকিন আবায়মি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি না যে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন সম্পর্কে এই তথ্যটি আমাদের কভিড-১৯ টিকাদানের প্রক্রিয়াটি হ্রাস করার একটি কারণ হতে পারে”। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই ভ্যাকসিন বন্ধ করে দিলে, সারা বিশ্বের মানুষের ভ্যাকসিনের উপর আস্থা অথবা বিশ্বাসের উপর আঘাত করব্রে।

নরউইচ স্কুল অফ মেডিসিন থেকে অধ্যাপক পল হান্টার বলেন, “এটি পরিষ্কারভাবে তদন্ত করতে হবে, তবে আমি মনে করি আমরা সবাই জানি যে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগটি হ'ল, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে কোনও বিলম্ব, এই সময়ে, বিশেষতঃ এমন একটা সময়ে, যখন এই রোগটি এখনও অনেক সাধারণ এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ক্রমবর্ধমান, সেই সব ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুতর বিপদ দেকে আনবে এবং আরও বেশি সংখ্যায় মানুষের মৃত্যু হবে।” অধ্যাপক পল হান্টার জানিয়েছেন, যে সমস্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলির খবর ইতিমধ্যেই জানা গেছে, সেগুলি তদন্তের পরিণতি অনিচ্ছাকৃত হতে পারে। তিনি বলেন, “আপনি যখন কোনও বিশেষ ক্ষতিকারক ফলাফল সম্পর্কে উদ্বেগ শুরু করবেন এবং তা সবাইকে জানাবেন, তখন দেখবেন আরও অনেক মানুষ সেই একই আশংকার কথা জানাবে। এবং এইভাবে আসলে মহামারী সম্পর্কে প্রায় একটি মিথ্যা খবর রটতে শুরু করবে।”

এই মহামারীতে যে সব দেশগুলিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল, ব্রাজিল তাদের মধ্যে অন্যতম, যেখানে অ্যাস্ট্রাজেনিকা ভ্যাকসিনটি সবেমাত্র সরকারী অনুমোদন পেয়েছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে এখনও এটি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পায় নি।

please wait

No media source currently available

0:00 0:04:40 0:00
সরাসরি লিংক



XS
SM
MD
LG