অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভারতে সীমিত সংখ্যায় বিমান চলাচল শুরু


ভারতে আজ সোমবার থেকে কিছু কিছু জায়গায় খুব সীমিত সংখ্যায় বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল আজ ২৫শে মে থেকে শুরু হবে আগেই কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিমানমন্ত্রীকে আগে থেকেই অনুরোধ জানিয়েছিলেন যে, রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্পান যে তাণ্ডব চালিয়েছে তার ফলে বহু জায়গায় পরিকাঠামো বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। সুতরাং পশ্চিমবঙ্গে অন্তত অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ২৮ তারিখের আগে শুরু করা সম্ভব হবে না। সেই অনুযায়ী বিমানমন্ত্রক ২৮শে মে থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুধুমাত্র একটি সেক্টরে-- কলকাতা বাগডোগরা বিমান চলাচল শুরু করবে বলেছে। আর বাকি অংশে শুরু হওয়ার কথা মাসের শেষে ৩০শে মে থেকে।

এরই মধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত একটি মামলায় রায় দিতে গিয়ে বলেছে, এয়ার ইন্ডিয়া যে বিশেষ উড়ান গুলোতে বিদেশ থেকে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে আসছে, সেখানে মাঝের আসনটি তারা ব্যবহার করতে পারবে না। ওটা খালি রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার জন্য ওটা করা দরকার। এয়ার ইন্ডিয়া তখন বলে যে সব টিকিট আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে ১৫ই জুন পর্যন্ত। সুতরাং অন্তত ঐ দিন পর্যন্ত ওটা ছাড় দেওয়া হোক। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, না। আংশিক ছাড় দেওয়া যেতে পারে ৬ই জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী দশ দিন মাঝের আসনটিতে যাত্রী নেওয়া যাবে, কিন্তু তারপর থেকে আর নয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারকে ঠিক করতে হবে যে আগে তার নাগরিকদের জীবন, নাকি তার বিমান সংস্থার লাভ, কোনটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ৬ই জুনের আগে পর্যন্ত আপাতত যা চলছে চলুক, কিন্তু তার পরে আর চলবে না।

এরই মধ্যে ডোমেস্টিক ফ্লাইট বা অভ্যন্তরীণ উড়ান নিয়ে বেশ কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, আগে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বলা হয়েছিল যাত্রীদের মোবাইলে যদি আরোগ্য সেতু অ্যাপটি না থাকে তা হলে বিমানে উঠতে দেওয়া হবে না। কিন্তু তার পরে যুক্তি দেওয়া হয় যে আরোগ্য সেতু অ্যাপটি সর্বসাধারণের ব্যবহার করার জন্য যে ধরনের স্মার্ট ফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন দরকার হবে, সকলের কাছে সেরকম ফোন নাও থাকতে পারে। যদি ধরে নেওয়া যায় যে অ্যাপটি তাঁদের কাছে নেই। তা হলে কি শুধুমাত্র ঐ অ্যাপটি নেই বলে তাঁরা বিমানে উঠতে পারবেন না? এরপর বিমান মন্ত্রী বলেন, আমরা চাইছি যে আরোগ্য সেতু সবাই ডাউনলোড করে ব্যবহার করুন, কিন্তু তা যদি নাও থাকে, অন্তত যাত্রা শুরুর দু'একদিন আগে কোনও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে করোনা পরীক্ষা করিয়ে শরীরে করোনার জীবাণু নেই এমন একটি সার্টিফিকেট নিতে হবে এবং তারপর নিজে একটি ফর্ম ফিল আপ করে তিনি যে কারোনা মুক্ত, সে কথা ঘোষণা করতে হবে। তারপরেও অবশ্য বিমানবন্দরে গিয়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করাতেই হবে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত কিন্তু একটা অনিশ্চিত অবস্থা এবং বিভ্রান্তি বিরাজ করছে। যতদিন না স্পষ্ট ভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়, ততদিন এই বিভ্রান্তি কমবে না। বিমানমন্ত্রক থেকে একটু অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে, আরও দু'একদিন লাগবে পুরো ব্যাপারটা সহজ হতে।

please wait

No media source currently available

0:00 0:03:12 0:00
সরাসরি লিংক


XS
SM
MD
LG