অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে ১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে খাবার নেই: ব্র্যাক


বাংলাদেশের প্রভাবশালী দুটো প্রতিষ্ঠান তাদের জরিপের ফলাফলে বলেছে, সমাজের নিম্নবর্গ এবং নিম্ন আয়ের মানুষ করোনার নেতিবাচক প্রভাবে ইতোমধ্যে খাদ্যাভাব, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তার অভাবসহ চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও সংকটের মধ্যে পড়েছেন। বিশ্বের বৃহৎ এনজিও ব্র্যাকের সদ্যসমাপ্ত জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ১৪ শতাংশ মানুষের ঘরে খাবার নেই এবং চরম দারিদ্র বেড়েছে শতকরা ৬০ শতাংশ। এতে বলা হয়, এর বাইরেও জরিপকালে ২৯ শতাংশ মানুষের ঘরে ১ থেকে ৩ দিনের খাবার ছিল বলে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছে।

প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেটরি রিসার্স সেন্টার বা পিপিআরসি’র জরিপে বলা হয়েছে, করোনার কারণে লকডাউনসহ এ জাতীয় কর্মকান্ডের প্রভাবে শতকরা ৭০ শতাংশ মানুষের আয় কমে গেছে। অর্থনৈতিক কর্মকান্ড থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন ৭১ শতাংশ মানুষ। জরিপে আগে দারিদ্র্যসীমার কিছুটা উপরে থাকা মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে আসায় অর্থনীতিবিদগণ তাদের নতুন নাম দিয়েছেন নব্য গরীব শ্রেণী বা ভালনারেবল নন পুওর।

৬৪ জেলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষের ওপরে ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে বলা হয়েছে, ২৪ শতাংশ মানুষ করোনার প্রার্দুভাবের আগে ছিলেন দারিদ্র্যসীমার নিচে। ব্র্যাক পরিচালিত জরিপে বলা হয়েছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ মানুষ চরম দরিদ্রে পরিণত হয়েছেন। সামাজিক দূরত্ব ও সাধারণ ছুটির কারণে ৭২ শতাংশ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন- এরমধ্যে শ্রমিক, কৃষিজীবী, নিম্নআয়ের চাকরিজীবীরাও রয়েছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের আয় আগের তুলনায় কমেছে।
গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি দেশজুড়ে সাড়ে ৫ হাজার মানুষের ওপরে পরিচালিত এবং বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জরিপে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শেষে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি আরো বাড়বে। জরিপের ফলাফল সম্পর্কে বলেছেন, পিপিআরসির প্রধান এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

গবেষণা সংস্থা পিপিআরসি নিম্নবিত্ত অর্থাৎ দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা মানুষের জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকার অর্থ-সহায়তা প্রদানের সুপারিশ করেছে। এছাড়া খোলাবাজারে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি বা ওএমএস ব্যবস্থা চালুর কথাও বলেছে পিপিআরসি।

XS
SM
MD
LG