অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে: টিকা নিয়ে অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ 


বাইরে চলাচলের সময় লোকজনদের মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা। ফাইলে ফটো- রয়টার্স

এক নাগাড়ে ছয় সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতি থাকার পর কভিড-১৯’এ সংক্রমণ ও মৃত্যু নিচের দিকে নামছে। বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিদিন দুই শতাধিক মৃত্যু হলেও তা এখন দুইশ’এর নিচে নেমে এসেছে।সর্বশেষ একদিনে ১৫৯ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর আগে গত ৪ঠা জুলাই এক দিনে ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়।এরপর থেকে মৃত্যু এবং সংক্রমণ বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ১০ই আগস্ট সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়। দৈনিক শনাক্তের হারও গড়ে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।একদিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় ১৬,২৩০ জন।

গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ৫৬৬ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে।নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।আগের দিন বুধবার ৭ হাজার ২৪৮ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়,মৃত্যু হয় ১৭২ জনের।

রোগী শনাক্তের হার কমায় হাসপাতালগুলোতেও এখন আর আগের মতো চাপ নেই।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। এ হাসপাতালে কিছুদিন আগেও অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে দেখা গেছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক জানিয়েছেন, রোগী আগের চেয়ে কমেছে। এ কারণে কিছু শয্যা ফাঁকা রয়েছে। যারা আসছেন তাদের সবাই ভর্তি হতে পারছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে মহাখালির ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড হাসপাতালে।শুধুমাত্র করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত এ হাসপাতালে নতুন রোগী আসছেন কম।তাই সাধারণ শয্যার পাশপাশি আইসিইউ শয্যাও এখন খালি আছে।

সংক্রমণ কমতির দিকে থাকায় গত ১১ই আগস্ট থেকে সরকারের জারি করা বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়। তবে ওই সময় বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র খোলা হয়নি।বলা হয়েছিল, গণপরিবহন চলবে অর্ধেক সংখ্যক। বৃহস্পতিবার থেকে এসব বিধি-নিষেধও তুলে দেয়া হয়েছে। খুলে দেয়া হয়েছে বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র।

সবকিছু খুলে দেয়ার পর সরকারের তরফে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানানো হয়েছে।তবে অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সংক্রমণ পরিস্থিতি যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

ওদিকে রাজধানীর উত্তরার একটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে করোনা ভাইরাসের টিকা বিক্রির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার দক্ষিণখান এলাকায় ‘দরিদ্র পরিবার সেবা’ নামে একটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে বিজয়কৃষ্ণ তালুকদার নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।এসময় ওই ক্লিনিক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বাসায় অভিযান চালিয়ে

মডার্নার টিকার ২০টি খালি বাক্স ও ২টি টিকার অ্যাম্পুল উদ্ধারের তথ্য জানায় পুলিশ।দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার ইয়াসিন আরাফাত জানান, উদ্ধারকৃত দুটি অ্যাম্পুলের মধ্যে একটি খালি অবস্থায় ক্লিনিক থেকে এবং আরেকটি আংশিক পূর্ণ অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাসার ফ্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি পুলিশের কাছে নিজেকে পল্লী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।এছাড়া সাম্প্রতিক গণটিকা কর্মসূচির আওতায় তিনি নিজে উত্তরার একটি টিকা কেন্দ্রে টিকা দিয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।ওই ক্লিনিকে অবৈধভাবে প্রতি ডোজ ৫০০ টাকার বিনিময়ে মডার্নার টিকা দেয়া হচ্ছে এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ

অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।দক্ষিণখান থানা পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে তারা এমন তিনজনের খবর পেয়েছেন যারা ওই ক্লিনিকে টাকার বিনিময়ে টিকা দিয়েছেন।পুলিশের ধারণা, গণটিকা কর্মসূচির সময় কোনো কেন্দ্র থেকে টিকা সরিয়ে ওই ক্লিনিকে আনা হতে পারে।

ক্লিনিক থেকে টিকা উদ্ধারের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, পুলিশ তদন্ত শেষ হলেই জানা যাবে কীভাবে ওই টিকা সেখানে গেছে,টিকা আসল না নকল সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হক মিয়া জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।আদালত তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

XS
SM
MD
LG