অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

টাকা চাইতে খারাপ লাগে, তাই খেলার টিকিট বিক্রিতে নেমেছেন তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন মানুষ


বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট ম্যাচের টিকিট বিক্রি করছেন তৃতীয় লিঙ্গের পায়েল। ছবি সৌজন্য: বাংলা নিউজ ২৪

"করোনার কারণে মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালো নেই। তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে তাই খারাপ লাগে। সেজন্য অল্প যা পুঁজি ছিল তা নিয়ে টিকিট কিনে একটু বেশি দামে বিক্রি করছি।" রোববার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মূল গেটে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম টেস্টের টিকিট বিক্রি করতে করতে বাংলানিউজকে কথাগুলো বলছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের পায়েল।

শুধু পায়েল নন, টিকিট বিক্রি করছিলেন হিজড়া জনগোষ্ঠীর আরও বেশ ক’জন মানুষ। তাদের সবারই একই কথা–মানুষের কাছ থেকে টাকা নেবার চেয়ে টিকিট বিক্রি করে আয় করা ভালো।

পায়েল বাংলানিউজকে বলেন, অনেক কষ্টে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ২০টি কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছি। প্রতি টিকিট কেনা দামের চেয়ে ৫ বা ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছি। লাভ সেভাবে হচ্ছে না। অনেক সময় আবার স্কুলছাত্র ও বাচ্চাদের কেনা দামে টিকিট দিতে হচ্ছে। খেলা থাকলে আমরা টিকিট সংগ্রহ করে বিক্রি করি। এবার দীর্ঘদিন পরে টিকিট বিক্রি করতে পারছি।

করোনার কারণে ভালো নেই জানিয়ে পায়েল বলেন, "করোনায় মানুষের কাছ থেকে টাকা চাইতে খারাপ লাগে। মানুষ ভালোভাবে চলতে পারছে না। তারপরও অনেক সময় বেঁচে থাকার জন্য মানুষের কাছে টাকা চাইতে হয়।"

পায়েলের অদূরে টিকিট বিক্রি করছিলেন তৃতীয় জনগোষ্ঠীর আরেক সদস্য শাপলা। তিনিও বলছিলেন একই কথা, "টিকিট বিক্রি করে লাভ সেভাবে হচ্ছে না–তা ঠিক আছে। কিন্তু এতে তো স্বস্তি আছে। অন্তত এ সময় কারও দয়া নিয়ে চলতে হচ্ছে না।"

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বশেষ দর্শক দেখা গিয়েছিল এই মাঠে। এরপর ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে ২০২১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও দর্শকশূন্য গ্যালারিতে সিরিজটি শেষ হয়। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সকালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-পাকিস্তানের প্রথম টেস্টের মধ্যে দিয়ে স্টেডিয়ামে কেটেছে দর্শক খরা। ৫০ শতাংশ দর্শক মাঠে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করে বিসিবি। ৪ ক্যাটাগরিতে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইস্টার্ন স্ট্যান্ডের টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ টাকা। ক্লাব হাউজ পূর্ব গ্যালারির টিকিটের মূল্য নির্ধারিত করা হয়েছে ২০০ টাকা। এ ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডের মূল্য ৩০০ ও হসপিটালিটি বক্সের টিকিটের মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই স্টেডিয়ামে এমনিতে ১৭ হাজার দর্শক বসার ধারণক্ষমতা আছে। তবে করোনার সময়ে ৫ হাজার দর্শককে মাঠে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

XS
SM
MD
LG