অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিচারক কামরুন্নাহার ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা হারালেন


বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবন

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর সাবেক বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সিজ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে গত ১১ ই নভেম্বর বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার ঢাকার বনানী এলাকার রেইনট্রি হোটেল ধর্ষণ মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর মামলা গ্রহণ না করার জন্য পুলিশকে পরামর্শ দেন। তাঁর এই পর্যবেক্ষণ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় ।

এ প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিচারিক ক্ষমতা সাময়িক ভাবে প্রত্যাহার করে তাঁকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও অপর একটি ধর্ষণ মামলার একজন

আসামীকে গত বছর বিচারক কামরুন্নাহার কর্তৃক জামিন প্রদানের বিষয়ে তিনি আজ আপিল বিভাগে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন।

কিন্তু এরপর রুদ্ধদ্বার আদালত কক্ষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের সাথে কথা বলে। এরপর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁর ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা আদালত সিজ করা হয়েছে বলে জানানো হয় । এতে বলা হয় আদালতের পূর্ণ রায় পরে প্রকাশ করা হবে।

মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা সিজ করার বিষয়ে আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মী জিয়া হাবিবের কাছে ভয়েস অফ অ্যামেরিকার তরফে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ মামলার আসামিকে জামিন দিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন । মোসাম্মৎ কামরুন্নাহারের এ ধরনের পদক্ষেপকে আদালত অবমাননার সামিল বলে তিনি উল্লেখ করেন । সুপ্রিম কোর্টের এই রায় দেশের ইতিহাসে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে বলেউল্লেখ করে জিয়া হাবিব আশা প্রকাশ করেন যে এটা ভবিষ্যতে বিচারিক আদালতের বিচারকদের জন্য দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

XS
SM
MD
LG