অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

সোমবার থেকে ঢাকার আটটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কেন্দ্র চালু


সম্প্রতি গন টিকাদান কর্মসূচীর সময় টিকা দেয়ার কাজ চলছে- ফটো -পিআইডি

আগামীকাল সোমবার থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীদের করোনা ভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচী শুরু হচ্ছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামসুল এক ভার্চুয়াল ব্রিফিং এ এমন তথ্য জানিয়ে বলেছেন এ লক্ষ্যে ঢাকার ৮টি স্কুলে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি জানান যে সকল স্কুলে টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাউথপয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চিটাগং গ্রামার স্কুল, মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুরের কমার্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমন্ডির কাকলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরার সাউথ ব্রিজ স্কুল এবং মিরপুরের স্কলাস্টিকা স্কুল।

এসকল কেন্দ্রের প্রতিটিতে ২৫টি করে বুথ স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদিত ফাইজার ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তিনি বলেন যে ৮টি কেন্দ্র নির্বাচন করা হয়েছে সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজেদের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সেখানে আশে পাশের নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরাও টিকা নিতে পারবেন। তিনি বলেন গত ১৪ই অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলাতে ১২০ জন স্কুল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হয়েছিল এবং তাদের কোন সমস্যা হয় নাই।

শামসুল হক আরও বলেন ঢাকার বাইরে ২২টি জেলায় এই বয়সের শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন যেহেতু তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নাই তাই জন্ম সনদ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে। টিকা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীকে টিকা কার্ড এবং জন্ম সনদ সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন নিবন্ধন করা না থাকলে টিকা দেওয়া হবে না। শামসুল হক বলেন প্রতিটি কেন্দ্রে ডাক্তার উপস্থিত থাকবেন।

স্কুল শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদের কাছে ভয়েস অফ অ্যামেরিকার পক্ষে তাঁর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হাত থেকে দেশের মানুষকে পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে হলে যুবা-বৃদ্ধদের পাশাপাশি শিশুদেরও টিকার আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন এখন দেখতে হবে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার বিষয়টা সুপরিকল্পিত কিনা। তিনি বলেন এটা লক্ষ্য রাখতে হবে এ ক্ষেত্রে কোন বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে কিনা কারণ এর আগে দেখা গেছে গ্রামের মানুষ টিকার সুরক্ষা না পাওয়ায় ডেল্টা ভ্যারিয়েণ্টের সাম্প্রতিক ঢেউয়ের সময় গ্রামাঞ্চলের মানুষ একদিকে যেমন ব্যাপক ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন তেমনি তাঁদের অনেককে প্রাণও দিতে হয়েছে ।

অধ্যাপক বেনজির আহমেদ বলেন শিশুরা যাতে এ ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। টিকার সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৭ বছরের নিচের শিশুদের নিয়ে সরকারের কি চিন্তা ভাবনা সেটাও পরিষ্কার করতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন কারণ এরাও স্কুল শিক্ষার্থীর মধ্যেই পড়ছে। তিনি বলেন স্কুল খুলে দেয়া হয়েছে এবং সকল বয়সের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাচ্ছে তাই সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল বয়সের শিক্ষার্থীকে সুরক্ষিত করতে টিকার আওতায় আনা জরুরী ।

XS
SM
MD
LG