বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে র্যাব (Rapid Action Battalion) ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৬০০ টি গুমের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে যা কীনা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। ঘটনার শিকার কোন কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হলেও কিংবা গোপনে মাসের পর মাস আটক রাখার পর আদালতে হাজির করা হলেও, অন্যরা হয় আইনবহির্ভূত হত্যার শিকার হন অথবা নিখোঁজই থেকে যান। হিউমান রাইটস ওয়াচের একটি নতুন প্রতিবেদনে ৮৬ টি এমন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে যারা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অথচ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তদন্ত করতে এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার সম্মুখীন করতে ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছে। বাংলাদেশের গুম পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকান কংগ্রেসের টম ল্যান্টস মানবাধিকার কমিশন এক ভার্চুয়াল আলোচনা চক্রে এ সব বিষয়ে আলোকপাত করেছে।
এই কমিশনের দু’জন কো চেয়ারপার্সন ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য জেমস পি ম্যাকগভার্ন ও রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য ক্রিস্টোফার স্মিথের উদ্যোগে মঙ্গলবার এই ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় সকল বক্তাই এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার অধীনে আনার কথা বলেন , বিশেষত এর সঙ্গে র্যাব সম্পৃক্ত রয়েছে এই অভিযোগ আসায় এই বিশেষ বাহিনীর শীর্ষ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টিও উঠে আসে। এই ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেন হিউমান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি, বাংলাদেশের আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন সানজিদা ইসলাম প্রমুখ।
ল্যান্টস হিউমান রাইটস কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন বাংলাদেশে যে কোন ধরণের মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগকে আমলে নিতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন এ ধরণের অভিযোগ তারা আগেও পেয়েছেন কিন্তু তা যথার্থ নয়। দেখা গেছে নিখোঁজ লোক নিজেই হাজির হয়েছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্কৃতকারিরা র্যাব এর নাম ব্যবহার করে, তাদের অপবাদ দিয়ে লোকজনকে গুম করেছে। বাংলাদেশ তার রাষ্ট্রীয় আইনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সামঞ্জস্য বজায় রেখে প্রয়োগ করে আছে।