অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর নির্ধারণ করা হলো  


কেরানীগঞ্জের খোলামোড়ায় একটি গণ টিকা শিবির চলাকালীন একজন স্বাস্থ্যকর্মী একজন ব্যক্তিকে সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের দিয়ে দিচ্ছেন - ফাইল ফটো- এএফপি

বুধবার ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও টিকা কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন যাদের বয়স ১৮ বা এর বেশি হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই সুরক্ষা ওয়েবসাইটে তাদের নিবন্ধন

কার্যক্রম চালু হয়েছে। এখন থেকে ১৮ বছরের যে কেউ নিবন্ধন করে করোনার টিকা নিতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সর্বনিম্ন ২৫ বছর বয়সীরা টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারতেন।

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত উপজেলা হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি প্লানিং অফিসারদের সম্মেলনে বলেছেন এখন থেকে প্রতি মাসে তিন কোটির বেশি মানুষকে করোনা ভাইরাসের টীকা দেয়া সম্ভব হবে এবং সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। সরকার ২১ কোটি টিকা ডোজের ব্যবস্থা করেছে বলে উল্লেখ তিনি বলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই সাত কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা বলেছিল এবং সম্প্রতি তাদের সাথে যে মিটিং হয়েছে সে সময় তারা টিকার সংখ্যা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাজেই টিকার কোনও অভাব হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ মিলে প্রায় ৬ কোটি মানুষকে ইতিমধ্যেই টিকা দেওয়া হয়ে গেছে। যেভাবে টিকা কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে যাদের ভ্যাকসিন প্রয়োজন তার প্রায় ৫০ ভাগকে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকেও সরকার টিকার আওতায় আনার ব্যবস্থা করেছে । এ লক্ষ্যে শতাধিক স্কুল শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি পরীক্ষা মূলক ভাবে করোনার টিকা দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হলেই তাদের টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

অপরদিকে, দেশে করোনাভাইরাসের মহামারী শুরুর পর গত ১৮ মাসের মধ্যে এই প্রথমবার একটি মৃত্যুহীন দিনের দেখা পেয়েছে ঢাকা বিভাগ। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ ই মার্চ। তার দশ দিন পর ১৮ ই মার্চ আসে প্রথম মৃত্যুর খবর। ২০২০ সালের ৩রা এপ্রিল মৃত্যুহীন দিন দেখেছিল বাংলাদেশ এবং সেই দিন ঢাকা বিভাগেও করোনার কারণে কোন মৃত্যুর রেকর্ড হয় নাই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে ঢাকা বিভাগে তারপর থেকে করোনায় মৃত্যু কোনও দিনই শূন্য হয় নাই।

বুধবার সংস্থাটি যে হিসেবে দিয়েছে তাতে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জন মারা গেছেন যার মধ্যে ঢাকা বিভাগের কেউ নাই। প্রথম মৃত্যু ও প্রথম সংক্রমণ সব ঢাকা বিভাগেই ছিল। এ পর্যন্ত সংক্রমণ ও মৃত্যু সব চেয়ে বেশি ঢাকাতেই। এ যাবত সারাদেশে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১২ হাজার ১১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে যা মোট মৃত্যুর ৪৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে গত এক দিনে দেশে আরও ৩৬৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছ ১,৫৬৬,৬৬৪ জন।

XS
SM
MD
LG