অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

গবেষণা প্রতিবেদন: দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার ৬ মাস পরেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহাল থাকে 


ঢাকার গাজীপুরে একজনকে করোনাভাইরাসের টিকা দিচ্ছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী- ফাইল ফটো- এএফপি

দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেয়ার পর চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ৯৯ দশমিক ১৩শতাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এন্টিবডির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যারা দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের টিকার মেয়াদ ছয়মাস পার হওয়ার পরও শরীরে কোভিড-১৯ সুরক্ষা দেয়ার মত পর্যাপ্ত এন্টিবডি আছে বলে চট্টগ্রামে এক গবেষণায় এই তথ্য মিলেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইসেন্স বিশ্ববিদ্যালয়-সিভাসু চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণী পেশার ৭৪৬ জনের উপর গবেষনা চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে একদল গবেষক এই গবেষণা চালায়। গবেষনা দলের অনান্য সদস্যরা হলেন সিভাসুর ওয়ান হেলথ ইন্সটিটিউটের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. শারমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. এম. এ. হাসান চৌধুরী, সহকারী গবেষক ডা. জাহান আরা, ডা. সিরাজুল ইসলাম, ডা. তারেক উল কাদের, ডা. আনান দাশ, ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ডা. ইয়াসির হাসিব, ডা. তাজরিনা রহমান, ইন্টার্নী চিকিৎসক ডা. সীমান্ত দাশ।

গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ জানান, শরীরে নির্দিষ্ট কোন রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কিনা, সেটি পরীক্ষা করার জন্য শরীরের রক্তের নমুনা নিয়ে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে কেউ করোনাভাইরাস বা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে ছিলেন কিনা, সেটা বুঝতে পারা যায়। কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের পর মানবদেহে এন্টিবডি তৈরি হয়, যদিও একেকজনের দেহে একেকরকম হারে এন্টিবডির পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। এছাড়া কোভিড-১৯ টীকা নেয়ার মাধ্যমে শরিরে এন্টিবডি তৈরি হয়।

গবেষকরা জানান, গবেষণাটি চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, রোগীর এটেন্ড্যান্ট, আউটডোর ও ইনডোর রোগী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের সার্স-কোভ-২ এর উপসর্গযুক্ত, উপসর্গহীন, প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেয়া ৭৪৬ জনের উপর এই গবেষনা করা হয়। এই গবেষনায় রক্তে সার্স-কোভ-২ এর এন্টিবডির উপস্থিতি- সেরোপজিটিভিটি সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষন করা হয়। গবেষণাটি ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বও পর্যন্ত পরিচালনা করা হয়। গবেষণায় এন্টিবডির উপস্থিতি ও পরিমান Enzyme-Linked Immunosorbent Assay (ELISA) test এর মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণকারী মোট ৭৪৬ জনের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ জনগোষ্ঠী (২২৩ জন) কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনের শুধুমাত্র প্রথম ডোজ নিয়েছেন। উভয় ডোজ নিয়েছেন প্রায় ৩১ শতাংশ (২৩১ জন) এবং ভ্যাক্সিন গ্রহণ করেননি জনগোষ্ঠীর ৩৯.১৪ শতাংশ (২৯২জন)।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের মধ্যে ৬২ দশামিক ৩৩ শতাংশের দেহে এন্টিবডি শনাক্ত হয়েছে। অপরদিকে, উভয় ডোজ গ্রহনকারী জনগোষ্ঠীর ৯৯ দশমিক ১৩ শতাংশের মধ্যে এন্টিবডি শনাক্ত হয়েছে। তবে, যারা টিকা গ্রহণ করেননি তাদের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশের দেহে প্রাকৃতিকভাবে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এন্টিবডি পাওয়া গিয়েছে।

গবেষণায় আরো বলা হয়, যারা টিকা গ্রহণ করেনি তাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে সার্স কোভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যে পরিমান এন্টিবডি তৈরী হয়েছে এর চেয়ে গড়ে প্রায় তিন গুণ বেশী এন্টিবডি (১৫৯দশমিক ০৮ ডি ইউ/ মিলি) তৈরী হয়েছে যারা ভ্যাক্সিনের ১ম ডোজ যারা নিয়েছেন তাদের শরীরে। আর প্রায় পাঁচগুণ এন্টিবডি টাইটার (২৫৫.৪৬ ডি ইউ/ মিলি) পাওয়া গেছে যারা ২য় ডোজ প্রহণষ করেছ তাদের শরীরে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণের পর প্রথম মাসে গড়ে যে পরিমাণ এন্টিবডি মানব দেহে বিদ্যমান ছিল (১৭৫দশমিক ১ ডি ইউ/ মিলি) তার প্রায় ২৫ শতাংশ হ্রাস পায় দ্বিতীয় মাসে। কিন্তু যারা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন তাদের এন্টিবডির পরিমান দুই মাসের মধ্যে ছিল ৩২৪ দশমিক ৪২ ডি ইউ/ মিলি। চতুর্থ মাসে এসে তা হ্রাস পেয়েছে ২১ শতাংশ। আর ষষ্ঠ মাসে এসে হ্রাস পায় চতুর্থ মাসের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

গবেষক দলের প্রধান জানান, এর ফলে গবেষনায় যারা কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করছেন তাদের শরীরে ছয় মাস পরেও কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পরিমান এন্টিবডি শরীরে বিদ্যমান রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য দফতর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চট্টগ্রামে গেল ২৪ ঘন্টায় সংক্রমনের হার ছিল ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এক হাজার ৭৪৭টি নমুনা পরীক্ষার পর ৭৬ জনের শরীরে কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ২ জন।

XS
SM
MD
LG