অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইভ্যালি নিয়ে নানান প্রশ্ন : অজস্র অভিযোগ অগ্রাহ্য


Evaly

হাজার হাজার অভিযোগ অগ্রাহ্য করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালিকে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিজেই যেখানে এক চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ চারটি সংস্থাকে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল,এখন তারাই বলছে, ব্যবস্থা নয়, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। তারাও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এই অনিয়মের ধারাবাহিক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে।

হাজার হাজার অভিযোগ অগ্রাহ্য করে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালিকে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিজেই যেখানে এক চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ চারটি সংস্থাকে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল,এখন তারাই বলছে, ব্যবস্থা নয়, জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। তারাও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এই অনিয়মের ধারাবাহিক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে। তদন্তে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ করেনি। তদন্তে এই প্রতিষ্ঠানের দায়-দেনার একটি চিত্র ফুটে ওঠে। এর সম্পদ রয়েছে ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। দেনার পরিমাণ ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সেরাজুল ইসলামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা তদন্ত করে অনিয়মের ঘটনা পেলেন। এর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেন আবার ব্যবসা করার সুযোগ দিলেন? তাঁর জবাব, “আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। তারপর তারা একটি গাইডলাইন তৈরি করে ব্যবসার অনুমতি দিয়েছে”। মুখপাত্র অবশ্য নতুন সুযোগের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, “সুযোগ নয়, সিস্টেমের মধ্যে এসেছে। এই নতুন সিস্টেম হচ্ছে ইভ্যালি এখন থেকে অগ্রিম টাকা পাবে না। সেটার নিশ্চয়তা তৃতীয়পক্ষ অর্থাত্ ব্যাংক। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইভ্যালির কার্যক্রমের ওপর নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা সেটা পেয়েছি। আমরাও চিন্তা-ভাবনা করে দেখেছি যেসব লেনদেন হয়েছে এর পূর্ণাঙ্গ তথ্য থাকা দরকার। এই লেনদেনকে দুই, তিন সেগমেন্টে ভাগ করা যেতে পারে। তাদের কিছু কাজ হয়েছে বিধি সম্মত। গ্রোসারি শপ থেকে যদি কোন পণ্য কেনা হয় সেটা দ্রুত সরবরাহ করতে হবে। আর যদি সেটা ম্যানুফ্যাকচারিং জিনিস হয় সেটা দিতে হবে ১৫ দিনের মধ্যে। সাধারণভাবে দেখা যায়, তারা যে মালামালগুলো ডেলিভারি দেবে সেটা যেন রিসিভ করার পর ক্রেডিট ট্রান্সফার হয়। এটা যদি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে হয় তাহলে সে দায়িত্ব পালন করবে ব্যাংক”। দায়-দেনা সম্পর্কে সেরাজুল ইসলাম বলেন, “যেহেতু ওরা অগ্রিম দিয়ে দেয় সেক্ষেত্রে তো কিছু বকেয়া থাকতেই পারে”। ইভ্যালি ২০১৮ সনের ১৪ই মে রেজিস্ট্রেশন নেয়। ব্যবসা শুরু করে একই বছরের ডিসেম্বরে। এর রয়েছে ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার ২০৭ জন গ্রাহক। নানা ধরনের চমকপ্রদ অফার দিয়ে শুরু থেকেই মানুষকে আকৃষ্ট করতে থাকে। এর মধ্যে ছিল অর্ধেক দামে মোটরসাইকেল সরবরাহ। অবিশ্বাস্য এই অফারের ফলে পুরো বাজার তারা দখল করে নেয়। বিজ্ঞাপনের পেছনে খরচ করে কোটি কোটি টাকা। নামিদামি তারকাদের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগ করে। বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য তারা সময়মতো অর্ধেক দামে মোটরসাইকেল সরবরাহ করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকে। ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের কথা ছিল। ৭০ দিন পর যোগাযোগ করা হলে টাকা ফেরত দেবে বলে অঙ্গীকার করা হয়। সে অঙ্গীকার তারা রাখেনি। ২৮ হাজার টাকার মোবাইল ফোন ১৭ হাজার টাকায় দেয়ার ঘোষণায় রীতিমত চাঞ্চল্য তৈরি হয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই ফোন পাননি। টাকার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন।

এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তরে। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ রাসেল। সাবেক ব্যাংকার রাসেল কিছুদিন যাবত গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। তার ফোন কখনো বন্ধ, কখনো খোলা। অফিসে আসেন না। তবে তিনি নানা মহলে ব্যবসা চালুর চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রেখেছেন। একাধিক ব্যাংক ইতিমধ্যেই ইভ্যালির লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। স্থগিত করেছে ভাউচারে পণ্য বিক্রি। ব্যাংকগুলো সতর্ক করেছে তাদের গ্রাহকদেরকে।

দুর্নীতি দমন কমিশন ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামিমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

এদিকে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ প্রতারণার অভিযোগে ইভ্যালি ডট কমের সদস্য পদ স্থগিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত রিপোর্ট, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভিন্ন ক্রেতা ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার প্রেক্ষিতে কেন সদস্য পদ বাতিল হবে না, এই মর্মে তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

XS
SM
MD
LG