অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া সাবমেরিন চুক্তি বাতিল নিয়ে বাইডেনের সাথে কথা বলবেন ম্যাক্রোঁ


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের সাথে ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে, ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা জোট গঠন নিয়ে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

দুই পুরোনো মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং ফ্রান্সের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনার পরিকল্পনা করছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত নতুন নিরাপত্তা জোট এবং অস্ট্রেলিয়া প্যারিসের সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি বাতিল করার প্রেক্ষিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

ফরাসি সরকারের মুখপাত্র গ্যাব্রিয়েল আত্তাল রবিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতা ম্যাক্রোঁর সাথে কথা বলতে চেয়েছেন এবং শীঘ্রই তাঁদের মধ্যে একটি ফোনালাপ হবে। নিউজ চ্যানেল বিএফএম টিভিকে তিনি বলেন, ফ্রান্স অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি বাতিলের বিষয়ে "ব্যাখ্যা" চায়।

অস্ট্রেলিয়া গত সপ্তাহে ১২ টি প্রচলিত ডিজেল-বৈদ্যুতিক সাবমেরিন তৈরির জন্য ফরাসি মালিকানাধীন নৌবাহিনী গ্রুপের সাথে ৬৬ বিলিয়ন ডলারের ২০১৬ সালের চুক্তি বাতিল করায় প্যারিস দুঃখ প্রকাশ করেছে। যদিও অস্ট্রেলিয়া বলেছে যে তারা কয়েক মাস ধরে ওই চুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ফরাসি মুখপাত্র বলেন, প্যারিস বাতিল চুক্তির ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনায় বসতে চায়।

তবে ফরাসি-অস্ট্রেলিয়ান চুক্তি ভেঙে যাবার মূল কারণ দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রিটেনের নিরাপত্তা জোট ঘোষণা। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন মিলিতভাবে অস্ট্রেলিয়াকে অন্তত আটটি পারমাণবিক সাবমেরিন করে দেবে।

এতে ক্ষুব্ধ ফ্রান্স, ওয়াশিংটন এবং ক্যানবেরা থেকে তার দূতদের ডেকে পাঠালেও, ব্রিটেনের দূতকে ডাকেনি।

এ বিষয়ে রবিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ফ্রান্স থেকে অর্ডার করা প্রচলিত সাবমেরিনগুলি তাঁদের কৌশলগত চাহিদা পূরণ করবে না বিধায় তাঁর দেশ উদ্বিগ্ন ছিল। তিনি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য ফ্রান্সের সাথে চুক্তির সমাপ্তিকে দায়ী করেন, যদিও তিনি বিশেষ করে চীনের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেননি, যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ পারমাণবিক প্রযুক্তির এই ধরনের অংশীদারিত্বকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে নিন্দা করেছে।

রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মরিসন বলেন, তিনি আদেশটি বাতিলের ব্যাপারে ফ্রান্সের হতাশার কারন অনুধাবন করেছেন, কিন্তু বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বার্থ সবার আগে”।

শনিবার, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ ইভ লে ড্রিয়ান ফ্রান্স 2 টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাতিল হওয়া চুক্তিটিকে একটি “সংকট” বলে অভিহিত করেন।

(এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস থেকে নেয়া)

XS
SM
MD
LG