অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিকে অপসারণ করা হলো


উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করছেন শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস। ছবি: শিক্ষা সংসদ

উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার নম্বর নিয়ে বিতর্কের সুত্র ধরে শেষপর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাসকে অপসারণ করা হলো। আজ তাঁকে সরিয়ে নতুন সভাপতি করা হয়েছে চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে, যিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ছিলেন।

সরকার থেকে মহুয়া দাসকে অপসারণের কোনও স্পষ্ট কারণ দেওয়া হয়নি, শুধু বলা হয়েছে, এটা রুটিন বদলি।

তবে এরকম একটা কিছু যে ঘটতে চলেছে, তা বেশ কিছুদিন ধরেই আঁচ করা গিয়েছিল। প্রথমত, এবার রাজ্যে করোনা আবহের জন্য মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক কোনও পরীক্ষাই হয়নি। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের সকলকেই পাশ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের ১০০% পাশের হার নিয়ে হাসি ঠাট্টাও কম হয়নি। এর পরেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল যখন ঘোষণা করা হলো, দেখা গেল মোট ৯৭ শতাংশের কিছু বেশি পরীক্ষার্থীকে পাশ করানো হয়েছে। বলা হয়, পরীক্ষা না হলেও মূল্যায়ন করা হয়েছে শিক্ষকদের রিপোর্ট ও অন্যান্য নানা বিষয় বিবেচনা করে।

ফল প্রকাশের পরেই রাজ্যজুড়ে নানা স্কুলে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। তাঁরা কোথাও ভাঙচুর করেন, কোথাও রাস্তা অবরোধ করা হয়। নবান্ন থেকে মহুয়া দাসকে ডেকে পাঠানো হয়। তারপর মুখ্য সচিবের নির্দেশ অনুসারে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের শেষ পর্যন্ত পাশ করিয়ে দেওয়া হয়।

বিতর্ক কিন্তু এখানেই থামেনি। মহুয়া দাস যখন উচ্চমাধ্যমিকের সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া ছাত্রীর নাম বলছিলেন, তখন তাঁর ধর্মের পরিচয়ও দিয়েছিলেন, যা অবান্তর বলে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই ব্যাপারটাকে ভালভাবে নেননি। কৈফিয়ৎ হিসেবে তখন মহুয়া দাস বলেছিলেন, তিনি নিতান্ত আবেগের বশে ওই ছাত্রীর ধর্ম উল্লেখ করেছিলেন। কারণ, তাঁর ওই সময় বেগম রোকেয়ার কথা মনে হয়েছিল, যিনি একই ভাবে খুব ভালো পড়াশোনার জন্য খ্যাতি পেয়েছিলেন, কিন্তু উঠে এসেছিলেন সাধারণ ঘর থেকে।

আজকের অপসারণ এই সব কিছু মিলিয়েই হয়েছে বলে ধারণা।

XS
SM
MD
LG