অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

বিতর্কিত অরুণাচল প্রদেশে ভারতীয় নেতাদের সফর সম্পর্কে চীনের আপত্তি নাকচ করে দিয়েছে ভারত 


ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেনকাইয়াহ নাইডু- ফাইল ফটো- এপি

ভারত ও চীনের মধ্যে ১৭ মাসব্যাপী সামরিক অচলাবস্থার অবসানের লক্ষ্যে থমকে থাকা আলোচনার কয়েকদিন পরই এশিয়ার এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বি নতুন করে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির পূর্বাঞ্চলের অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণ নিয়ে এই বাকযুদ্ধ। এই প্রদেশটিকে চীন তার নিজের এলাকা বলেই দাবি করছে।

এই বাক্য-বিনিময় দুটি দেশের মধ্যে গভীর উত্তেজনারই ইঙ্গিত। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে তারা হিমালয় সংলগ্ন সীমান্ত জুড়ে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করেছে।

সপ্তাহান্তে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেনকাইয়াহ নাইডুর ঐ দূর্গম হিমালয় রাজ্য সফরের বিষয়ে বেইজিং যে আপত্তি জানিয়েছে, ভারত তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে অরুণাচল প্রদেশ “ হচ্ছে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ”।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, “ ভারতীয় নেতারা নিয়মিত ভাবে অরুণাচল প্রদেশ সফরে যান, যেমন অন্যান্য রাজ্যেও যান। ভারতীয় নেতাদের ভারতেরই একটি রাজ্যে যাওয়ার বিরুদ্ধে এই আপত্তি যুক্তিহীন এবং ভারতের জনগণের বোধগম্যতার বাইরে”।

বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান, চীনে সংবাদ ব্রিফিং’এর সময় ভারতীয় নেতার ঐ সফরের “তীব্র বিরোধীতা” করেন এবং নতুন দিল্লিকে, “ এমন সব কার্যকলাপ বন্ধ করার আহ্বান জানান, যা সীমান্তের বিষয়টি আরও জটিল ও সম্প্রসারিত করবে”। তিনি ভারতকে চীনের উদ্বেগের প্রতি সম্মান জানাতে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাজায় রাখতে “প্রকৃত পদক্ষেপ” নিতে বলেন।

এই-ই প্রথমবার নয় যে চীন কোন ভারতীয় নেতার অরু ণাচল প্রদেশ সফরের ব্যাপারে আপত্তি জানালো। ২০১৭ সালে ঐ অঞ্চলে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সফর সম্পর্কেও তারা এই আপত্তি জানিয়েছিল। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে চীন যেহেতু এই রাজ্যটিকে দক্ষিণ তিব্বতের অংশ বলে দাবি করে আসছে, এটিকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হতে পারে।

লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন করা হাজার হাজার সৈন্যকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যপারে দু পক্ষের সামরিক কমান্ডারদের আলোচনা ভেঙ্গে পড়লে দু দেশই তাদের অবস্থান শক্ত করার পর, চীন নাইডুর এই সফর সম্পর্কে আপত্তি জানালো।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন যে “দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লংঘন করে চীনের পক্ষ থেকে বর্তমান অবস্থান একতরফা ভাবে পাল্টানোর প্রচেষ্টার কারণে লাদাখে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

XS
SM
MD
LG