অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ইস্রাইল-ফিলিস্তিনী সহিংসতার সর্ব সাম্প্রতিক পরিস্থিতি-ভয়েস অফ এ্যামেরিকার রিপোর্ট


ইস্রাইল ও ফিলিস্তিনীদের মধ্যে এই হালে যে সহিংসতার মাত্রা অনেকখানিই বেড়ে উঠেছে,আজ শনিবারেও তা বহাল থেকেছে-পৃথক পৃথক সহিংসতার ঘটনায় তিন ফিলিস্তিনী গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে- ইস্রাইলী কর্মকর্তাদের বক্তব্য মোতাবেক তারা ইস্রাইলীদের ওপর চড়াও হবার চেষ্টা চালাচ্ছিলো।

প্রথম ঐ চড়াও অভিযানের সূত্রপাত ঘটে হেবরনে-এক ফিলিস্তিনী সেখানে এক ইস্রাইলী বসত স্থাপনকারিকে ছুরি মারবার চেষ্টা করেছিলো। পুলিশ সূত্রে বলা হচ্ছে-ইস্রাইলী ঐ ব্যক্তি গুলি চালায় আর তাতেই অস্টাদশ বর্ষীয় ঐ ফিলিস্তিনী যুবক আহত হয় এবং পরে ঐ আঘাতের কারনেই মৃত্যু হয় তার।

দ্বিতীয় হামলা-ঘটনায়, ইস্রাইলী কর্মকর্তাদের বয়ান মোতাবেক-১৬ বছরের একটি ফিলিস্তিনী কিশোর সবজি কাটার একটা ছুরি নিয়ে পুর্ব জেরুযালেমের এক তল্লাশি চৌকিতে এক ইস্রাইলী পুলিশের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করলে তাকে গুলি মারা হয় এবং সে মারা যায়।

এরপর,হেবরনের অদূরে, এক নারী আততায়ি এক নারী পুলিশকে ছুরিকাঘাত করলে তাকে গুলি মেরে হত্যা করা হয়- জানানো হয়েছে পুলিশ সূত্র থেকে। ফিলিস্তিনীদের তরফের আক্রমন তৎপরতা- একটার পর একটা, এবং বেশিরভাগই যার ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা-যাতে কিনা ইস্রাইলের সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।আর ফিলিস্তিনীদের তরফে প্রাণ হারিয়েছে কম হলেও ৪০ জন- মৃত্যু হয়েছে এদের , অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, ইস্রাইলী সৈন্য ও পুলিশের গুলিতে- যার কিছু কিছু ঘটেছে চড়াও অভিযানের সময়, আর বাকি সব ঘটেছে প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে।

এহেন সহিংসতার ঘটনায় উদ্বিগ্ন প্রেসিডেন্ট ওবামা।

প্রেসিডেন্ট ওবামা এ উদ্বেগ ব্যক্ত করেন শুক্রবারদিন।বাগাড়ম্বরতা কমিয়ে সহিংসতা প্রশমিত করার, ক্ষোভ-উষ্মা ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের প্রতি।

প্রেসিডেন্ট বলেন-অনেক চেষ্টা হয়েছে – বিস্তর উদ্যোগ প্রয়াস চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে- থমকে থাকা ইস্রাইল-ফিলিস্তিনী সংলাপ আবার শুরু করা এখন নির্ভর করছে ইস্রাইলীদের ওপর-ফিলিস্তিনীদের ওপর- যাতে সহিংসতা থামানো সম্ভব হয়।বলেন- ইস্রাইল ও ফিলিস্তিনীদের মধ্যেকার সকল সমস্যার নিস্পত্তি অবধি অপেক্ষা করে থাকা সম্ভব বলে মনে হয়না।আরো গঠনাত্মক সম্পর্ক গড়া নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর- আমরা তাতে মদত দিতে প্রস্তুত রয়েছি- বলেন তিনি।তবে,এই সময়ের ভেতরে,এই মুহুর্তে যা দরকার সেটি হলো-নিরিহ,নিরপরাধ মানুষের প্রাণ না যায় , সেদিকপানে খেয়াল রাখতে হবে আমাদের।

ইতিমধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরী আসছে সপ্তাহে বৈঠকে বসতে চলেছেন ইস্রাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে।শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র দফতর এ তথ্যের যাথার্থ নিশ্চিত করে বলেছে- বৈঠক হবে সম্ভবত: জার্মানীতে তবে খুঁটিনাটি এখনো নির্ধারন করা হয়নি।নেতানিয়াহূর বৈঠক হবে জার্মানীর চান্সেলারের সঙ্গে বুধবারদিন।

এদিকে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে-শুক্রবারদিন,ইস্রাইল ও ফিলিস্তিন – দু’ তরফেই পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করা হয়েছে।জাতিসংঘে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রদূত রিয়াদমানসূর যেমন ইস্রাইলী নৃশংসতার অভিযোগ করেন:

তেমনি আবার ইস্রাইলের তরফেও ইস্রাইলী রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন অভিযোগ করেন- হানাহানিতে ইন্ধন যুগিয়েছে ফিলিস্তিনীরাই:

ফ্রান্স ইতিমধ্যে,নিরাপত্তা পরিষদের তরফে একটা বিবৃতির খসড়া প্রনয়ন করছে- সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাতে,মুসলিমদের আল আকসা মসজিদ আর ইহূদিদের টেম্পল মাউন্ট অবস্থান পূর্ববতই বহাল রাখার আবেদন জানাতে ।

গুজব বলছে- পুর্ব জেরুযালেমের ঐ ধর্মীয় পীঠস্থানটি ইস্রাইল কব্জা করার চিন্তা করছে- এবং সাম্প্রতিক উত্তেজনার বড়ো কারণ সেটাই। ইস্রাইল এ গুজব অস্বীকার করে।

please wait
Embed

No media source currently available

0:00 0:04:31 0:00

XS
SM
MD
LG