অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগ করল কুয়েত সরকার


কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ

আবার পদত্যাগ করেছে কুয়েত সরকার। রাজনৈতিক অচলাবস্থায় জর্জরিত উপসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট ও তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে সোমবার এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো পদত্যাগ করল সরকার।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, কুয়েতের শাসক শেখ নওয়াফ আল আহমাদ আল সাবাহ সরকারের পদত্যাগের নোটিশ পেয়েছেন। তবে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল হামাদ আল সাবাহ কর্তৃক প্রেরিত ওই পদত্যাগপত্র শেখ নাওয়াফ গ্রহণ করবেন কিনা, তা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

এই সরকার এর আগে জানুয়ারিতে আরেকবার পদত্যাগ করেছিল। রবিবার, শেখ নওয়াফ সরকারের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে বিরোধী রাজনৈতিক সদস্যদের আংশিক ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন।

তেলের রিজার্ভের কারণে কুয়েত অন্যতম ধনী একটি দেশ। তবে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জনগণকে বেসরকারী খাতে উত্সাহিত করতে সংগ্রাম করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দরপতনের ফলে, এর নাগরিকদের জন্য ক্র্যাডল-টু-গ্র্যাভ সামাজিক সুবিধাগুলি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় এবং কোষাগারে ঘাটতি দেখা দেয়।

কুয়েতের আমির-নিযুক্ত সরকার এবং নির্বাচিত সংসদের অস্বাভাবিক সমন্বয় প্রায়শই বিবাদের জন্ম দেয় যা বিশ্লেষকদের মতে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে প্রধান অন্তরায়। সংসদ আইন প্রণয়ন এবং মন্ত্রীদের প্রশ্ন করতে পারে, যদিও দেশের আমির চূড়ান্ত কর্তৃত্ব বজায় রাখেন এবং শাসক পরিবারের সদস্যরা সিনিয়র পদে অধিষ্ঠিত আছেন।

করোনভাইরাস মহামারীর ফলে চরম আর্থিক বিপর্যয়ে পতিত হয় কুয়েত। গত বছর, রেটিং এজেন্সি মুডি'স এর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ধাপ নিচে নেমে আসে দেশটি।

এমনকি কোষাগার দ্রুত খালি হওয়ার পরেও, সংসদীয় অনুমোদন ছাড়া সরকারের বর্তমান সীমা ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেলে ঘাটতি-ব্যয় মেটানোর কোনও আইনি কাঠামো সেখানে নেই। দুর্নীতির কারণে অর্থ লুট করা হতে পারে, এই ভয়ে আইনপ্রণেতারা ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

XS
SM
MD
LG