অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

লালমনিরহাটে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা


কোরআন অবমানার অভিযোগে শহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার রাতে লালমনিরহাটের বুড়িমারীতে ঘটেছে।
পুলিশ জানায়, শহিদুন্নবী জুয়েল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুলতান যোবাইয়ের নামে একজন সঙ্গীসহ বুড়িমারীতে আসেন এবং বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন তারা। নামাজ শেষে মুসল্লি ও ইমামকে একটি সংস্থার পরিচয় দিয়ে মসজিদের ভিতরে অস্ত্র আছে এমন দাবী করেন তারা। কথা বলার সময় কোরআন শরীফ রাখার একটি শেডে পা রাখাছিলো জুযেলের। কোরআন শরীফের পাশে পা রাখার দৃশ্য দেখে মুসল্লিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ক্রমান্বয়ে আশেপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকে। এক পর্যায়ে পাশে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে আটকে রাখে। পরে বাজার এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, কোরআন অবমাননার দায়ে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দরজা জানালা ভেঙে জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মরদেহ টেনে পাটগ্রাম বুড়িমারী মহাসড়কে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয় স্থানীয়রা। অপর সঙ্গী সুলতান যোবাইয়েরকে আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে জুয়েলকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলা হলেও তার সাথে থাকা সুলতান পুলিশকে এমন কথা বলেননি। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এ বিষয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা ভয়েস অফ আমেরিকাকে বলেন, জুয়েলসহ আরেক যুবক বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আসর নামাজ আদায় করেন। পরে তারা মসজিদে অস্ত্র আছে এমন কথা বলে তল্লাসী করতে থাকেন। এসময় মুসল্লিদের সাথে হাতাহাতি বেঁধে যায়। পরে পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয় এবং জনগণের পিটুনীতে জুয়েল মারা যায়। সাথে থাকা সুলতানকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। তিনি আরো বলেন, কোরআন শরীফে পা রাখার বিষয়টি সঠিক ছিলো না। জুয়েল মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকজন তাকে ভারসাম্যহীন বললেও তার সাথে থাকা সুলতান এমন কথা তাদের কাছে বলেননি।
এদিকে নিহত জুয়েলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। তিনি রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের গ্রন্থাগারিক পদে এক সময় চাকরি করতেন। তিনি রংপুর শহরের মিস্ত্রীপাড়া এলাকার আব্দুল ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে।
এই ঘটনায় এখনো ওই এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাবের সদস্যদের টহল অব্যাহত আছে। একটি হত্যা মামলাসহ মোট তিনটি মামলা করার কথা জানিয়েছেন পুলিশ।

please wait

No media source currently available

0:00 0:02:32 0:00


XS
SM
MD
LG