অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ভয়েস অফ আমেরিকাকে অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বললেন : আফগানিস্তান পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি দেখতে আরও অপেক্ষা করতে হবে 


অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

আফগানিস্তান পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি দেখতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। কারণ পরিস্থিতি এখনও জটিল এবং টালমাটাল।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রখ্যাত অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এমনটাই মনে করছেন।

উইন্সটন চার্চিলের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, কোনো পরিবর্তনেই সমস্যা নেই যদি পরিবর্তন সঠিক পথে হয়।

ভয়েস অফ আমেরিকার এই সংবাদদাতাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের এই অধ্যাপক বলেন, তালিবানের উত্থানের পেছনে কোনো গল্প লুকিয়ে রয়েছে কিনা সেটা জানার জন্য ইতিহাসের নিরিখে অপেক্ষায় থাকতে হবে।

তবে তালিবানের উত্থানকে, আফগানিস্তান দখল বলা একটু কঠিন আছে এজন্য যে, আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বে যে পাঞ্জশির উপত্যকা, সেখানে কিন্তু এখনো লড়াই চলছে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে একটা ধর্মভিত্তিক কূপমণ্ডূক সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হয়েছে। এটি ভয়ঙ্কর তালিবান ১৯৯৬ থেকে ২০০১ যে শাসন দেখিয়েছিল, সেখানে যদি ফিরে আসি তাহলে অনেক শঙ্কার কারণ আছে এবং লক্ষণীয় আফগানিস্তানের পুরনো পতাকা নিয়ে নারীরা পথে নেমেছে।বিভিন্ন জায়গায় মানুষ বিক্ষোভ করেছে পুরনো পতাকা নিয়ে।সাম্প্রতিক যে খবরাখবর আসছে, তাতে নারীদের বোরকায় আপত্তি নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষার অধিকার দিতে হবে।বোঝা যাচ্ছে যে, তালিবানকে বেশকিছু প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সবকিছু মিলিয়ে জনগণের মধ্যে তালিবান সম্পর্কে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। শরিয়া আইন চালুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।ইসলামে শরিয়া আইন বলে কিছু নেই। শরিয়া আল্লাহর বাণী নয়, কিন্তু সেই আইনটা তারা জারি করেছে। কাজেই তারা কত কঠোর হবে। তারা বলছে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে। কিন্তু বাস্তবে কতটুকু হয় তার জন্য আমাদের এখনও অপেক্ষা করতে হবে। আরেকটি ব্যাপার এখানে- চীন কিন্তু ঢুকে পড়েছে। চীনের সঙ্গে বেশ দহরম-মহরম। কারণ সব দূতাবাস সরিয়ে নিলেও চীনা দূতাবাস এখনও চালু আছে। আর তালিবান ঘোষণা করেছে, তারা চীনের সাহায্য গ্রহণ করবে। তবে চীনের নজর খনিজ সম্পদের দিকে।

বাইডেন ৩রা সেপ্টেম্বর বলেছেন যে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে সংশোধন করার জন্য সামরিক বাহিনী পাঠাবে না। এটা বাইডেনের কথা। তবে বাইডেন কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারেন তার নীতি সেটা দেখার বিষয়।

এখন আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ কিন্তু অনিশ্চিত।তার কারণ হচ্ছে, তারা ইসলামের নামে যা করছে তার কোনোটাই ইসলাম সমর্থিত নয়। যেমন ধরা যাক, তারা পাগড়ি পরছে আর বাংলাদেশের মুসলমানরা তো টুপি পরছে। দাড়ি টুপির বিধান কুরআন, ইসলামের কোথাও নেই। এই যে বোরকা না পরার কারণে তালিবান একজন নারীকে গুলি করে মেরেছে, এটা তো ইসলাম ধর্মে নেই। সেজন্য এই ধর্মভিত্তিক উন্মাদনা একটি সংক্রামক ব্যাধি। যেমন আমরা গণমাধ্যম থেকে জেনেছিলাম, বাংলাদেশ থেকে কিছু তালিবানপন্থী যুদ্ধ করার জন্যই আফগানিস্তানে গেছে।আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে অমূলক বলেছেন, কিন্তু ভারতে তো কিছু ধরা পড়েছে। এখন আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এটা আমরা ধরেই নিচ্ছি। অন্যদিকে এই ধর্মভিত্তিক কূপমণ্ডূকতা পৃথিবীর কোন দেশের কোন ইতিহাসে জয়ী হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে আমার মনে আছে, বঙ্গবন্ধু যখন মুক্তি পেলেন পাকিস্তানের কারাগার থেকে, তখন এক ভদ্রলোক যিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখভাল করতেন।তিনি বঙ্গবন্ধুর কাছে একটি উপহার চাইলেন। তো বঙ্গবন্ধু তাকে ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট বইটি উপহার দিলেন। উপরে লিখে দিলেন যে, মিথ্যা প্রথম জয় অর্জন করতে পারে, কিন্তু সত্য চিরন্তন। এই কথাটি বঙ্গবন্ধু তাকে লিখে দিয়েছিলেন। তো এখন তালিবান সত্য না মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়েছে তা আমরা দেখবো। দক্ষিণ এশিয়া বিপদের মুখে আছে। বাংলাদেশ অনেকটা পশ্চিমা দুনিয়ার মতো অবস্থান ধরে রেখেছে, দেখা যাক কি হয়। তবে বাংলাদেশে আরেকটি সমস্যা হচ্ছে আফগানিস্তান সার্কের সদস্য। আফগানিস্তানকে যখন সার্কের সদস্য করা হয়, তখনই আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রবন্ধ পড়েছিলাম, এটা সার্ককে ধ্বংস করার প্রথম পদক্ষেপ। কারণ আফগানিস্তানকে কখনোই সার্কের সদস্য করা উচিত নয়।

XS
SM
MD
LG