অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

ওয়াশিংটনে রোহিংগাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধ শীর্ষক এক সেমিনার


ওয়াশিংটন ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান ‘পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল এন্ড পলিসি বা পিআইএলপিজি'-র উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিংগা শরণার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংস অপরাধ শীর্ষক এক সেমিনার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাহিরা কিবরিয়া।

২০১৮ সালের প্রথম দিকেযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পিআইএলপিজি বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের রোহিংগা শরনার্থী শিবিরগুলোতে ব্যাপক পরিসরে মানুষের অধিকার বিষয়ে নজীর বিহীন এক অনুসন্ধানী তদন্ত পরিচালনা করে ঐ সংস্থাটি কেবল মাত্র সংখ্যাধিক্য নয় বরং উচ্চমান সম্পন্ন তদন্ত পরিচালনা করেছে।

আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসারপিআইএলপিজির অন্যতম এক প্রতিষ্ঠাতাএবং ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট। ডক্টর পল উইলিয়ামস তদন্ত মূলক রিপোর্টে লেখকদের অন্যতম। ডক্টর ইউলিয়ামস বলেন, পিআইএলপিজির তদন্ত মিশন বাংলাদেশে রোহিংগা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ১হাজার ২৪জন রোহিংগার ব্যাপক সাক্ষাতকার গ্রহণ করে। তাদের উওরের ভিত্তিতে “তথ্য অনুসন্ধান এবং আইনি বিশ্লেষণ” নামের ১’শ পাতার তদন্ত রিপোর্টটি সরকারী আন্তর্জাতিক আইন এবং নীতিমালা সংক্রান্ত কাজ করে পিআইএলপিজি প্রকাশ করে।


PILPG-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং সিনিয়ার পিস ফেলো কৌশলী, কোয়ালিশন ফর ইন্টারন্যাশনাল জাষ্টিস এর সাবেক পরামর্শক নিনা বেং জেনসন বলেন, বাস্তবতার নিরিখে PILPG জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনাল জাতিসংঘ কমিশনের তদন্ত সংস্থা অন্যান্য আইনি সহায়তা দানকারী প্রতিষ্ঠান এই কাজে যোগ দিয়েছে এবং সকলেই উল্লেখ যোগ্য অবদান রেখেছে। তিনি আরও বললেন, অপরাধ বিষয়ক এবং লিঙ্গ ভিত্তিক অপরাধ জনিত তদন্তকারী সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিশেষজ্ঞরা এই গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তারা আমাদের সংগে যোগ দিয়ে কাজ করেছেন। আমরা আইন এবং সংঘাত এই দু'টি বিষয়ের দিকে বিশেষ ভাবে দৃষ্টি দিয়েছি। মানবিক অধিকার সংক্রান্ত আইন, মনো-সামাজিক বিষয়গুলোর দিকেও আমরা জোর দিয়েছি।
"তথ্য অনুসন্ধান এবং আইনি বিশ্লেষণ” নামের ১’শ পাতার তদন্ত রিপোর্টটি প্রস্তুতে অংশ গ্রহণকারী মোট ৬জন লেখক এবং সম্পাদকের একজন হচ্ছেন গ্লোবাল ট্রানজিশনাল জাস্টিস ইনিশিয়েটিভ “প্রোগ্রাম ডাইরেক্টার’ PILPG-এর বাংলাদেশ ডকুমেন্টেশনের সাবেক প্রজেক্ট ডাইরেক্টর মিলিকা কোসটিক তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরগুলোতে প্রায় যে ৭ লক্ষের মত রোহিংগা রয়েছেন তাদের মধ্য থেকে আমরা ১ হাজারের কিছু বেশি রহিংগার সংগে কথা বলে প্রশ্ন করে ---বিশেষ তথ্য সংগ্রহ করেছি। আমরা ঐসব তথ্য নানা শিবির থেকে জোগাড় করেছি। আমাদের তদন্তকারীরা প্রত্যেকটি ক্যাম্পে গিয়েছেন। তারা ৩৪টি শরণার্থী শিবিরের প্রত্যেকটিতে যে স্বল্প সংখ্যক জনগোষ্ঠী রয়েছে ঐসব এলাকাতে গিয়ে ১হাজার ২৪ জনের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছে।

তদন্তকারী এবং তদন্ত দলের সদস্য সংখ্যা ছিল মোট ২২জন। তদন্তকারীরা রোহিংগাদের যেসব প্রশ্ন করেন তার প্রত্যেকটি প্রশ্ন PILPG পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে ক্ষতিয়ে দেখেছে।

ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ল –বিভাগের এডজাংক্ট প্রফেসার স্যান্ডি হডকিনসন ভয়েস অব আমেরিকাকে জানালেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অপরাধ এবং মানবাধিকার তদন্তকারীরা ঐ কাজে যোগ দেন এবং তারা ১ হাজারের উপরে ইন্টারভিউ নেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আমাদের লক্ষ্য কিন্তু ১হাজার রহিংগার জীবনী সংগ্রহ করা নয়। বরং ২০১৬ সালের পর দেশত্যাগী রহিংগাদের সামগ্রিক জীবন প্রতিফলিত হবে এমন ভাবেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের রোহিংগা শিবিরগুলোতে অনুসন্ধানী কার্যক্রমের সহো্যগিতা দেন PILPG-এর প্রোগ্রাম এসিসট্যান্ট নেহা ভাটিয়া রোহিংগা শিবিরে যান। একমাসের মত তিনি সেখানে ছিলেন এবং রোহিংগা ক্যাম্পে কাজ করেছেন।

এই অনুসন্ধান মুলক তথ্য বহুল রিপোর্টটি আন্তর্জাতিক সমাজ গ্রহণ করুক এবং মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিংগাদের উপরে যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, অত্যাচার, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা, ঘরবাড়ীতে আগুন দেওয়াসহ রোহিংগাদের জোর করে দেশ ছাড়া করা বা বাস্তুচ্যুত করার মত নৃশংসতা ঘটেছে তা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত হউক।

একই দিনে ওয়াশিংটনের হলোকাষ্ট মিউজিয়ামে রোহিংগা বিষয়ক টেলি কনফারেন্স হয়। বৈঠক শেষে হলোকাষ্ট মিউজিয়ামের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকার রোহিংগাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধ করেছে বলেও বর্ণনা করা হয়।

আপনার পছন্দমত বেছে নিন

মন্তব্যগুলো দেখান

XS
SM
MD
LG