অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তালিবানের প্রচারনায় সাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশের কিছু মানুষ


পাকিস্তানের সেনারা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত চামানে আটকে পড়া আফগান নাগরিকদের তল্লাশি করছে। ১৩ আগস্ট ২০২১।

তালিবান যোদ্ধারা কর্মী সংগ্রহে অনলাইন বেছে নিয়েছে। চালিয়ে যাচ্ছে ব্যাপক প্রচারণা। বলছে, আসুন আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করুন। শরিক হোন লড়াইয়ে।এই প্রচারণায় অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। বাংলাদেশেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম নিজে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।তিনি বলেন, মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের কিছু মানুষ তালিবানদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকজন ভারতে ধরা পড়েছে। আর কিছু মানুষ পায়ে হেঁটে চেষ্টা করছে আফগানিস্তান পৌঁছুতে।

সর্বশেষ গত মে মাসে আফগানিস্তান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এমন চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।ওই সময় পুলিশ জানিয়েছিল, অন্তত তিনজন তরুণ আফগানিস্তানে ‘হিযরতে’ যাওয়ার তথ্য তারা পেয়েছেন। ওই তিন জনের দুইজন, কুমিল্লার তরুণ আবদুর রাজ্জাক ও সিলেটের শিব্বির আহমেদ, আফগানিস্তানে পৌঁছে যাওয়ার তথ্যও পুলিশের হাতে আসে। অন্য একজনের অবস্থান নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজ্জাক একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি গাড়ি চালাতেন। নিখোঁজ হওয়ার পর তার ভাই সিলেট কোতয়ালি থানায় একটি জিডি করেছিলেন।আরেক তরুণ নোয়াখালীর রবিউল, আফগানিস্তান যাওয়ার জন্য ঘর ছেড়েছিলেন। এরপর থেকে তার অবস্থান জানা যায়নি।কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে যুক্ত যুবকদের কেউ কেউ আফগানিস্তান যাওয়ার চেষ্টা করছে।মে মাসে যে তিন তরুণ হিযরত করে, তারা ওই গ্রুপে যুক্ত ছিল। এছাড়া যাদের গ্রেপ্তার করা হয় তারাও ওই গ্রুপে যুক্ত ছিল।

‘সায়েন্স প্রোজেক্ট’ নামের ওই মেসেঞ্জার গ্রুপের সূত্র ধরেই অভিযান পরিচালনা করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে দুই তরুণের দেশ ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা কেউ পাসপোর্ট ব্যবহার করেনি।

১৯৭৯ সনে আফগান-সোভিয়েত যুদ্ধের সময়ও বেশ কিছু মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন। অনেকেই সে সময় মারা যান। আবার কেউ কেউ দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেও তারা জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত হন বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে বলা হয়। বিভিন্ন সময় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।

ওদিকে বাংলাদেশ পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেছেন, গত পরশু জঙ্গি সংগঠনের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়একজন বোমা বিশেষজ্ঞ। সে অনলাইনে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিত। নারায়ণগঞ্জে শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। সেটাও তার সরাসরি তত্বাবধানে করা। এ মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গি বা নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বলা যায়, তারা থেমে নেই। তিনি আরো বলেন,"কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর যাতে কোনো ঘটনা না ঘটে।"

পুলিশ কমিশনার বলেন, হামলাকারীদের একমাত্র উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসা। তাই তারা ১৫ই আগস্টকে বেছে নিতে পারে। জাতীয় শোক দিবসে ভেন্যুর আশপাশে না হোক, এক- দুই কিলোমিটার দূরেও যদি বোমাফাটাতে পারে তাতেও আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ হবে। এদিক বিবেচনা করেই তারা চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু যে গ্রুপ এটা করতে যাচ্ছিল তারা সবাই ধরা পড়ে গেছে। তবুও আশঙ্কা থেকে যায়। তিনি বলেন, ১৫ই আগস্ট উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে সারাদিন পুলিশের নিরাপত্তা থাকবে। মাস্ক পরতে হবে। সেলফি তোলা যাবে না। যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। চেক করা ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ পর্যন্ত ভেন্যুতে থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত জনশূন্য থাকবে ভেন্যু।

XS
SM
MD
LG