অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তিতাস নদী সংলগ্ন বিলে নৌকাডুবির ঘটনায় ২২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার


তিতাস নদী সংলগ্ন বিলে নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগরে তিতাস নদী সংলগ্ন লইসকা বিলে শুক্রবার বিকেলে বালু বোঝাই দুইটি ট্রলারের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী ইঞ্জিন বোটটির ২২ জন যাত্রীর মৃত দেহ শনিবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন ভয়েস অফ আমেরিকার এই প্রতিনিধিকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন ডুবে যাওয়া ইঞ্জিন বোটটিকে আজ বিলের পানির নিচ থেকে টেনে তীরে আনা গেলও নৌকাটিকে এখনো উপরে উঠানো সম্ভব হয় নাই। তবে তিনি বলেন উদ্ধারকারীরা নৌকাটিকে টেনে উপরে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন জানিয়েছেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২২ জনের সকলের মৃত দেহ তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান ঘটনাটি তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসন একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।

জেলার বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মাদ হাসান জানিয়েছেন শুক্রবার চম্পক নগর ঘাট থেকে ৭০-৮০ জন যাত্রী নিয়ে ইঞ্জিন বোটটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার আনন্দবাজার ঘাটের উদ্দেশে রওয়ানা হলে লইসকা বিলের দেওদুনা নামক স্থানে বালু বাহী দুইটি ট্রলার যাত্রীবাহী ইঞ্জিন বোটটিকে ধাক্কা দিলে নৌকাটি যাত্রীসহ বিলের পানিতে ডুবে যায়। যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হন। মির্জা মোহাম্মাদ হাসান বলেন এদের মধ্যে ৭ জনকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান ফায়ার সার্ভিস এবং বিআইডবলুটিএর উদ্ধার তৎপরতা আজকের মত শেষ হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত নৌকাটির কতজন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তার সঠিক সংখ্যা তিনি জানাতে পারেন নাই। তবে তিনি বলেছেন পুলিশ ঘটনাস্থলে মাইকিং করেছে কেউ নিখোঁজ থাকলে তা থানায় জানাতে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় নিখোঁজের কোন খবর দেয় নাই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে ইঞ্জিন বোট ডুবির ঘটনায় চম্পকনগরের মোহাম্মদ সেলিম নামের এক ব্যক্তি যিনি দুর্ঘটনায় তাঁর মা, বোন এবং বোনের এক ছেলে ও এক মেয়েকে হারিয়েছেন তিনি বিজয়নগর থানায় বালু বোঝাই দুই ট্রলারের মালিক, চালক সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামালা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে তারা এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীর কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নৌ দুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণহানি সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন সরকারের যে সকল প্রতিষ্ঠানের পরিবহন খাতের ওপর নজর রাখার কথা তারা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করার কারণে পরিবহন খাতে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে যার ফলে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এবং আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন দুর্ঘটনার সার্বিক কারণ সমূহ চিহ্নিত করে সেগুলো নিরসনের ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এবং দুর্ঘটনা রোধে যে সুপারিশমালা বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন সেগুলো কার্যকর করা গেলে পরিবহন খাতের দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব হত। তিনি পরিবহন খাতের সুষ্ঠু তদারকি এবং আইনসমূহের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দেন।

XS
SM
MD
LG