অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আংশিক বন্ধের কারণে বেতন পাচ্ছেন না ৮ লাখ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা


FILE - A demonstrator holds a sign, signifying hundreds of thousands of federal employees who won’t be receiving their paychecks as a result of the partial government shutdown, during a “Rally to End the Shutdown” in Washington, Jan. 10, 2019.

সরকারের আংশিক বন্ধের মাঝে যেই ৮ লাখ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না তারা খুব নিদারুন সময় কাটাচ্ছেন। এই অচলাবস্থার কারণে অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ডিসি তে যারা কাজ করেন। ভয়েস অফ আমেরিকার এনা কুক এর প্রতিবেদন থেকে পড়ে শোনাচ্ছেন সানজানা ফিরোজ।

সরকারের আংশিক বন্ধের কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় রেস্তরাঁ ব্যবসায়ী এবং লিফটের ড্রাইভারেরা।লিফট চালক টমি বলছিলেন এখানে দৈনন্দিন খরচ অনেক তাই একটু বাড়তি টাকা রোজগারের চেষ্টায় আমি লিফট চালাচ্ছি।রেস্তরাঁ ব্যবসায়ী হাসাম রেজা বললেন কোন ক্রেতা নেই। আমরা দোকানের মাসিক ভাড়া দিতে পারছিন, কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছিনা।

নীতি উপদেষ্টা শ্যাম বারজার বলেন এই আংশিক বন্ধ প্রলম্বিত হলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বেশী। এই পরিস্থিতি শুধুই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর।শ্যাম আরও বললেন ওয়াইট হাউসের ভাষ্য মতে সপ্তাহে ২৫০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা বাণিজ্যগুলো সংকটের মুখে পড়তে চলেছে।

গুরুতর নেতিবাচক প্রভাবের পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। সীমান্ত দেয়াল নির্মাণের অর্থ তহবিল গঠনে দৃঢ়।ট্রাম্প বলেন একটাই উপায়ন্তর রয়েছে ডেমক্রাটদের সামনে, তা হচ্ছে দেয়াল নির্মাণের অর্থ তহবিলের বিলটি পাস করানো। তাহলে এই অচলাবস্থার অবসান হবে।

কংগ্রেসে দেমক্রাতরা মনে করেন এই দেয়াল নির্মাণের বিপক্ষে এবং মনে করেন ট্রাম্প দেশকে জিম্মি করে রেখেছেন তার প্রচারণার প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে।

রাজধানীর মানুষ অত্যন্ত হতাশ এই পরিস্থিতিতে।ডিসির বাসিন্দা টমী রিচারড বলেন আমি আশা করছি তিনি শিগ্রহই সরকার খুলে দেবেন এবং জানাবেন সবাইকে কাজে ফিরে যেতে।রেস্তরাঁ মালিক অ্যাডাম তেঙ্গা বলেন তিনি যা চাইছেন তাঁকে দিয়ে দেয়া হোক কারণ এভাবে ার কতদিন? সবাই তো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।ডিসেম্বারে সরকারের এই আংশিক বন্ধ শুরু হবার পর থেকে কিছু কিছু রেস্তরাঁ বিনামুল্লে খাবার বিতরন করছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে যারা বেতন পাচ্ছেন না।

পিঁজা শেফ দেরেক ম্যাকগেইট বলেন ৬ তা থেকে ৮ তা পর্যন্ত কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিনামুল্লে পিঁজা পাচ্ছেন। আমার মতে এটা খুবই ভালো একটি উদ্যোগ কেননা অনেকে মাসিক খরচ বহন করতে পারছেন না।

আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই আংশিক বন্ধ হতে যাচ্ছে সবচাইতে দীর্ঘতম।

যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজি বাজার অবস্থা কিছুটা চাঙ্গা হবার পরও মেসিস এবং আমেরিকান এয়ারলাইনস ২০১৮ সালে তাদের আয়ের হিসাব সংশোধন করার পর তাদের স্টকের দরপতন হয়। অন্যান্য ববসায়িক প্রতিষ্ঠান যেমন জেসিপেনি, নরদস্ত্রম এবং কোলস এর ও একই অবস্থা। আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিয়ারস ও জানিয়েছে তাদের ব্যবসায়ীর ধ্বসের কথা।

মেসিস জানায় প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচাইতে বড় উৎসব থ্যাংকস গিভিং কে ঘিরে ভাল ব্যবসা হয়। কিন্তু এইবারই প্রথম জে মেসিসকে লোকসানের হিসেব করতে হচ্ছে।ব্রিহস্পতিবার তাদের স্টক ১৮ শতাংশ নেমে গেছে।

রেডমাউন্ট ক্যাপিটাল পার্টনার্স এর ভিন্সেন্ট ক্যাটালানো বলেন আপনি খেয়াল করে দেখলে বুঝতে পারবেন ক্রেতারা এখন বাড়তি কোনও কিছুতে খরচ করছেন্না। শুধু যা প্রয়োজনীয় তা খরিদ করছেন।কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা বলছেন থ্যাংকস গিভিং, ক্রিস্টমাসের ছুটিতে ব্যবসা বাণিজ্য তেমন মন্দ হয়নি। তবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ এই চিত্র বদলে দিতে পারে বলে তারা আশংকা করছেন।

আমেরিকান এপারেল এবং ফুটঅএয়ার এসসিয়েশনের রিক হেলফেনবেইন বলেন আমাদের যদি এই বাণিজ্য যুদ্ধের কথা মাথায় রাখতে না হত, এবং ভাবতে না হত জে আমাদের আয় কেমন হবে তাহলে অর্থনীতির চিত্রটি ভিন্ন হত।যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিসার্ভ এর চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বৃহস্পতিবার বিশ্ব অর্থনীতি এবং বাণিজ্য আলোচনা নিয়ে আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।জেরোম পাওয়েল বলেন আমার মতে বছরের শুরুটা একটা গতির মধ্য দিয়ে হয়েছে, চিন্তার বিষয় হচ্ছে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি। এশিয়া ইউরোপ এর পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায় গতি কমে গেছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে এতে আমরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হব। কেননা বিশ্ব অর্থনীতি এবং বাজার এর সঙ্গে অতপ্রতভাবে যুক্ত রয়েছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বাণিজ্যের আশা প্রত্যাশা নিয়ে ইউ এস চেম্বার অফ কমার্সের টম ডনাহুিউ বলেন কোন কোন বেক্তি আছেন যারা চাইছেন আমরা অর্থনীতির মন্দার কথা বলি। কিন্তু এখনকার চিত্র তো তা নয়।যতো চেেলঞ্জ, অনিশ্চয়তা বিরাজ করুক না কেন বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করুক না কেন অর্থনীতির তার অবস্থান শক্তভাবে ধরে রাখবে।

ডনাহুিউ বলেন শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন প্রশাসনের প্রয়োজন মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে আন্তরাজাতিক বাণিজ্যনীতি মেনে চলার জন্য চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা।

please wait
Embed

No media source currently available

0:00 0:06:56 0:00

XS
SM
MD
LG