অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

মুলারের তদন্তের প্রতিবেদন রাজনৈতিক উন্নতিসাধনে সাহায্য করেছে


Robert Mueller and Donald Trump.

সোমবার বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিষয়ে প্রতিবেদন দেবার পর প্রেসিডেন্ট ডনালড ট্রাম্প এবং তার রাজনৈতিক জোট যেন আরও একবার বিজয়ের স্বাদ পেলেন। তবে এই অনুসন্ধানে ক্ষুব্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ওয়াইট হাউসে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের সময় খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারনায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে সদ্য সমাপ্ত তদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ণ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,'আমি এই দেশকে ভালবাসি।আমার সৃষ্টিকর্তা, আমার দেশ, আমার পরিবার, আমি সব ভালবাসি। তবে তারা যা করেছে তা একেবারেই মিথ্যে।একজন প্রেসিডেন্টের জন্য এটি ছিল খুবই খারাপ একটি ব্যাপার। এর যেন পুনরাবৃত্তি না হয় আমাদের তা খেয়াল রাখতে হবে। আর কোনও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এমন যেন না হয়।'

বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের নেতৃত্বে রাশিয়া বিষয়ক এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর, ক্ষুব্ধ হওয়া সত্ত্বেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিজয়ের উল্লাস করবেন, কেননা তদন্তে রাশিয়ার সঙ্গে ২০১৬ সালের ঐ নির্বাচনী প্রচারণার কোনও যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তবে মুলার এই বিষয়টি খোলাসা করে বলেননি যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিচারকাজে হস্তক্ষেপ করেছেন কিনা।

এটর্নি জেনারেল ওয়িলিয়াম বার ঐ সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রমানের অভাব থাকায় অনুসন্ধানে আর এগোতে চাননি। তবে বিশেষ কৌঁসুলি মুলারের অনুসন্ধানে ঐ বিষয়ে কোনও প্রমান না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মিত্ররা সোমবার সংবাদ মাধ্যমের ওপর চড়াও হন যার মধ্যে ছিলেন ওয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ হাকাবি সান্ডারস।

সারাহ সংবাদ মাধ্যম সম্পর্কে বলেন,'কলঙ্কপূর্ণ, বিদ্বেষপরায়ণ সংবাদ প্রচার শুধু নয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পতন চেয়েছিল।'

আরও একজন দৃঢ় ট্রাম্প সমর্থক রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন সময় হয়েছে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার। কিছু কিছু মানুষ কখনোই মুলারের এই প্রতিবেদন মেনে নেবে না। আমি বা ওয়িলিয়াম বার যত চেষ্টাই করিনা কেন। তবে জনাব মুলার পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে এই প্রচারনের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসূত্রের বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন।

বিরোধী ডেমোক্রাটদের কৌতূহল বেশী ছিল ট্রাম্পের বিচারকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করার বিষয়টি নিয়ে। তারা রবার্ট মুলারের পূর্ণা প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

হাউস জুডীসিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জেরল্ড নাডলার বলেন,'তার তদন্তের ফলাফল অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মুলারের অনুসন্ধানে যা বেরিয়ে এসেছে তা কিন্তু এই প্রমান করেনা যে প্রেসিদেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি নির্দোষ।'

সাবেক কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী প্রীত ভারারা বলেন বিচারকাজে বিঘ্ন স্রিশ্তির বিষয়ে মুলারের অভিমত না দেবার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলনে, এই মামলাটি দায়ের হওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল কেননা মুলার এই বিষয়ে কোন অভিযোগ আনা যায় কিনা তা নিয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি। এবং আপনি তখনি এমনটি করবেন যখন বাধা সৃষ্টির পর্যাপ্ত প্রমান থাকবে।

তবে বার্নী সান্ডআরসের মতো ডেমোক্রাট প্রতিদ্বন্দ্বীর জন্য এই বাধা সৃষ্টির বিষয়টি হতে পারে আগামী ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য একটি মোক্ষম বিষয়। বার্নী সান্ডআরস বলেন, 'আমি এই অনুসন্ধানের পুরনাঙ্গ প্রতিবেদন চাই কেননা কেউ আইনের উরধে নয়। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট।

এর পরও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিউ ইয়র্কের কংগ্রেস এবং আইনজীবীদের তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।তবে ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়ার লারি সাবাটো মনে করেন এই বিষয়ে অভিশংসন হওয়া তো দুরের কথা বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের তদন্তের প্রতিবেদনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এক ধরনের রাজনৈতিক উন্নতিসাধনে সাহয়তা দিয়েছে।তিনি বলেন,'অভিশংসনের জন্য সমর্থন করা খুব সহজ। তবে অভিযুক্ত করে দণ্ডিত করা অনেক কঠিন।'

বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের প্রতিবেদনের ফলে রাজনৈতিক উন্নতিসাধনে সাহায্য পাবার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে এখন প্রচারণার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।

ভয়েস অফ আমেরিকার জাতীয় সংবাদদাতা জিম মালোনের প্রতিবেদনের বঙ্গানুবাদ পড়ে শোনাচ্ছেন সানজানা ফিরোজ।

please wait

No media source currently available

0:00 0:04:38 0:00

XS
SM
MD
LG