অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

টিকার স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশে গণটিকাদান কার্যক্রমে পরিবর্তন, সর্বোচ্চ মৃত্যু ২৬৪


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোভিড ভ্যাকসিনের ডোজ দিচ্ছেন একজন স্বাস্থ্যকর্মী ২২ জুন, ২০২১।

গত মঙ্গলবার এক সপ্তাহে এক কোটি টিকাদানের কর্মসুচি ঘোষণা করা হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, ৭-১২ই আগস্ট সারা দেশে এই কার্যক্রম চলবে বলে জানানো হয়। কিন্তু হঠাৎ করে বুধবার রাতে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের বরাতে বলা হয়, টিকাদান কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে টিকার স্বল্পতার কথা বলা হয় এই ঘোষণায়। ৬৬ লাখেরও বেশি মানুষ রেজিস্ট্রেশন করে টিকা প্রাপ্তির অপেক্ষায় রয়েছেন এবং ৪৬ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছেন।

সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ৭ই আগস্ট ১৫ হাজার ২৮৭ টি ওয়ার্ডে প্রতীকী টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। প্রত্যেক কেন্দ্রে কত টিকা দেয়া হবে তা এখনো জানানো হয়নি। এছাড়া কবে পুরোদমে টিকা কার্যক্রম আবার শুরু হবে তা এখনো অস্পষ্ট। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সবকিছুই নির্ভর করছে সময়মতো টিকা পাওয়ার ওপর। প্রতীকী কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বয়স্কদের টিকার আওতায় আনা। কারণ তাদের মধ্যে টিকাদানের প্রবণতা কম এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও বেশি। মন্ত্রী বলেন, এখনই ১৮ উর্ধ্ব সবাইকে টিকা দেয়া সম্ভব নয়।

ওদিকে সব রেকর্ড ভঙ্গ করে করোনায় ২৬৪ জন মারা গেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। এর আগে ২৭শে জুলাই সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আগের দিনের তুলনায় সংক্রমণ কমেছে। ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৭৪৪ জন সংক্রমিত হয়েছেন।

বাংলাদেশি গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, বাংলাদেশে আক্রান্তদের মধ্যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবই বেশি। জুলাই মাসে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ৯৮ শতাংশই ডেল্টা প্রকরণ দ্বারা আক্রান্ত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রকল্পের প্রধান ও উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ গবেষণার ফলাফল ঘোষণা করেন। চলতি বছরের ২৯শে জুন থেকে ৩০শে জুলাই পর্যন্ত সব বিভাগের ৩০০ জন কভিড রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। এই গবেষণায় আরেকটি দিক উঠে এসেছে। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে ইউকে বা আলফা ভ্যারিয়েন্টের দাপট বেশি ছিল। দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টেও অনেকে সংক্রমিত হন।

গবেষণার উদ্দেশ্য সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, ভাইরাসটির জিনোমের চরিত্র উন্মোচন, মিউটেশনের ধরণ এবং বৈশ্বিক ভাইরাসের জিনোমের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুঁজে বের করা এবং বাংলাদেশে কোভিড-১৯ জিনোম ডাটাবেজ তৈরি করা।

XS
SM
MD
LG