অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রতি কোনও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ নেই: বিশ্বব্যাংক


একজন ব্যক্তি ওয়াশিংটন-ভিত্তিক বৈশ্বিক উন্নয়ন দাতা, দ্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ভবনে প্রবেশ করছেন। ১৯ জানুয়ারি ২০১৯।

বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বব্যাংক তার অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে এ বিষযে তারা বাংলাদেশকে কোনও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে নাই।

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রচারিত ওই ব্যাখ্যায় একথা জানিয়ে বলা হয়েছে মিয়ানমার থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘু এই মুসলমান জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলেছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশকে সহায়তা দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির সমূহের আশপাশে বসবাসরত ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও বিশ্বব্যাংক সহায়তা করছে বলে সংস্থাটির ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।

ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি দল।
ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি দল।

এতে বলা হয়েছে কক্সবাজারের অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, নিরাপত্তা বেষ্টনী, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপক রাস্তা, রাস্তার সৌর বিদ্যুৎসহ মৌলিক অবকাঠামো এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা সমাধানে বিশ্ব ব্যাংক ৫৯ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শরণার্থীর রূপরেখা কি কারণে পর্যালোচনার করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিশ্ব ব্যাংক বলেছে শরণার্থী ও তাদের আশ্রয় দেয়া দেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অবস্থা মূল্যায়নের লক্ষ্যে এই পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে বর্তমানে শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংকের এমন ১৪টি সদস্য দেশের প্রতিটির পরিস্থিতি ইউএনএইচসিআর তথ্য উপাত্ত অনুসরণ করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে শরণার্থীদের আশ্রয়দাতা দেশসমূহের সমাজে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব সংবলিত ‘রিফিউজি পলিসি রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক’ নামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিশ্বব্যাংক। খবরে বলা হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক তার ব্যাখ্যায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে কোন সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করার বিষয়টি স্বীকার না করলেও সংস্থাটির ঢাকা দপ্তর থেকে বাংলাদেশকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওই ফ্রেমওয়ার্কটির বিষয়ে মতামত দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। পরে এই সময় সীমা বাড়িয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশ অবশ্য ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের ‘রিফিউজি পলিসি রিফর্ম ফ্রেমওয়ার্ক’ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয় কারণ বাংলাদেশ তাঁদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে। তাদের এই ফ্রেমওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশের চিন্তাভাবনার কোন মিল নাই বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ বলেছে রোহিঙ্গাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একমাত্র পথ হচ্ছে তাঁদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। বাংলাদেশ আরও বলেছে তাদের মুল অগ্রাধিকার হচ্ছে যথাশীঘ্র সম্ভব রোহিঙ্গাদের নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

XS
SM
MD
LG