অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

অস্ট্রেলিয়ার কাছে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে তাইওয়ান

ফাইল-তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই তারিখবিহীন ছবিতে, একটি চীনা পিএলএ জে -16 যুদ্ধবিমান অজ্ঞাত স্থানে উড়েছে।২ অক্টোবর ২০২১।
ফাইল-তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এই তারিখবিহীন ছবিতে, একটি চীনা পিএলএ জে -16 যুদ্ধবিমান অজ্ঞাত স্থানে উড়েছে।২ অক্টোবর ২০২১।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাইওয়ানের আকাশসীমা রক্ষা চিহ্নিতকরণ অঞ্চলে (এডিআইজেড)চীনের জঙ্গি বিমান অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পাওয়ার পর তাইওয়ান অস্ট্রেলিয়ার কাছে সাহায্য চেয়েছে।

চীন তাইওয়ানকে তাদেরই একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে মনে করে যেটি একদিন মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আবার যুক্ত হবে। তবে, তাইপে্র কর্তৃপক্ষ দ্বীপটিকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র মনে করে।

অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়াও তাইওয়ানের স্বঘোষিত স্বাধীনতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। তবে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে।

এই সপ্তাহে তাইওয়ানের আকাশসীমায় বেইজিং তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার পর তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জোসেফ উ, অস্ট্রেলিয়াকে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের মুখপাত্র বলেন, "তাইওয়ান এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিষয়গুলো নিয়ে মতবিরোধের সমাধান হুমকি বা বল প্রয়োগ বা জবরদস্তি নয়, শান্তিপূর্ণভাবে সংলাপের মাধ্যমে করতে হবে।" বিবৃতিটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের উদ্বেগের প্রতিধ্বনি যেখানে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা তাইওয়ানের উপর বেইজিংয়ের সৃষ্ট চাপ নিয়ে "খুব উদ্বিগ্ন"।

সিডনি ভিত্তিক গবেষণা ও নীতি সংগঠন লোই ইনস্টিটিউটের পূর্ব এশিয়ার একজন সিনিয়র ফেলো রিচার্ড ম্যাকগ্রেগর অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে বলেন, চীন তাইওয়ানের আকাশসীমায় কয়েক ডজন জঙ্গি ও বোমারু বিমান পাঠানোর পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে ক্যানবেরা যোগ দিলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

ম্যাকগ্রেগর বলেন, "এটি তাইওয়ানের ওপর একটি মানসিক চাপ সৃষ্টি করার পন্থা। চীন তাইওয়ান দখল করতে চায় না, তারা তাইওয়ানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায় না। তারা তাইওয়ানের উপর পর্যাপ্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় যাতে তারা শেষ পর্যন্ত এক ধরনের হাল ছেড়ে দেয় এবং চীনের শর্তাবলী মেনে নেয়।”

ম্যাকগ্রেগর বলেন, গত মাসে, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র "তাইওয়ানের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার" পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এটিকে "একটি নেতৃস্থানীয় গণতন্ত্র এবং তাইওয়ানকে উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার" হিসাবে বর্ণনা করেছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে, এই ধরনের অংশীদারিত্ব এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ম্যাকগ্রেগর।

তিনি আরও বলেন, "এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। কারণ, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতি তার সমর্থন বাড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সে অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের মতো দেশের সাহায্য চাইবে।"

প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার একটি প্রচেষ্টা।

চীন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হয়ে উঠেছে।

XS
SM
MD
LG