অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

আফগানিস্তানে চীনের বিনিয়োগ বিষয়ে তালিবানের দাবী নিয়ে সন্দিহান যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল - আফগানিস্তানে চীনের বিশেষ দূত, ইউ শিয়াওয়ং আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকের জন্য কাতারের রাজধানী দোহার একটি হোটেলে পৌঁছেছেন। ১০ আগস্ট ২০২১। (ছবি- করিম জাফার)
ফাইল - আফগানিস্তানে চীনের বিশেষ দূত, ইউ শিয়াওয়ং আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকের জন্য কাতারের রাজধানী দোহার একটি হোটেলে পৌঁছেছেন। ১০ আগস্ট ২০২১। (ছবি- করিম জাফার)

আফগানিস্তানে চীন কয়েক শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত বলে তালিবান যে দাবি করেছে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব জেন সাকি ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে চীনের প্রভাব বিস্তার মোকাবেলা করার চেয়ে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখে আফগান জনগণকে সাহায্য করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র বেশি উদ্বিগ্ন।

ভিওএ'র এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমাদের নজর এখন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আফগানিস্তানে সঠিক মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করার উপর। এটা নিশ্চিত করা যে তাদের যা প্রয়োজন তারা সেটা পাচ্ছে।

এই সপ্তাহের শুরুতে কাবুলে এক সাক্ষাৎকারে তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আফগানিস্তানের নতুন শাসকরা চীনের কয়েক শ’ কোটি ডলারের বিনিয়োগের বিনিময়ে তাদের শ্রমিক ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মুজাহিদ ভিওএকে বলেন, "তারা আফগানিস্তানের কিছু খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং বিস্তারিত আলোচনা করতে চায়।"

মুজাহিদ বলেন, "প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল মেস আয়নাক (আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় তামার খনি এবং প্রাচীন বৌদ্ধ ধ্বংসাবশেষের স্থান), এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেখানে তারা কয়েক শ’ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় এবং আফগানিস্তানেরও এটির প্রয়োজন আছে।"

চীন পাকিস্তান এবং ইরান সহ প্রতিবেশী দেশগুলিতে বিনিয়োগ করেছে। বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের একটি প্রধান প্রকল্প চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরে যোগদানের জন্য কাবুলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতির উপর কাজ করে ওয়াশিংটন ভিত্তিক এমন একটি চিন্তক গোষ্ঠী হাডসন ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক পরিচালক হোসেন হাক্কানি বলেন, “চীন এখন আফগানিস্তানে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এই ধারণাটি "অবাস্তব চিন্তাভাবনা”।কয়েক শ’ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করার অর্থ হচ্ছে বছরে লক্ষ লক্ষ ডলার ফেরত পাবার প্রত্যাশা। এই মুহূর্তে আফগান অর্থনীতি যে অবস্থানে রয়েছে এটি সম্ভব নয়।

হাক্কানি বলেন, চীন এখন পর্যন্ত তালিবানকে মাত্র ৩ কোটি ১০ লক্ষ ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে। তিনি বলেন, " সেটা নিশ্চয়ই এমন আভাস নয় যে চীন কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।"

তালিবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার আগে আফগানিস্তানে বড় আকারের বিনিয়োগের সম্ভাবনাও নেই।যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও চীন সহ অন্য কোন দেশ, স্বঘোষিত নাম- ইসলামিক আমিরাত-কে সরকারীভাবে আফগানিস্তানের সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

This item is part of
XS
SM
MD
LG