পিয়ংইয়ং-এর সর্বসাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর, উত্তর কোরিয়ার উপর চাপ বৃদ্ধির প্রয়াসের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে আরও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করছে।
বুধবার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পাঁচ জনকে এই অভিযোগে আখ্যায়িত করেছেন যে তারা পিয়ংইয়ং-এর অস্ত্র কর্মসূচির জন্য মালামাল সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছেন।
এসব পদক্ষেপ ছাড়াও, জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিনডা থমাস-গ্রিনফিল্ড -র একটি টুইট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যেন আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
তিনি আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
চীন এবং রাশিয়া এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দেশ দুইটিই নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং যে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপে তাদের সম্মতির প্রয়োজন। এই দুইটি দেশই, সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার পরিবর্তে শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইতোমধ্যেই এ বছর উত্তর কোরিয়া দুইটি পরীক্ষা পরিচালনা করেছে যেগুলোতে তারা, তাদের ভাষ্যমতে, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার আওতায়, উত্তর কোরিয়ার জন্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিষিদ্ধ।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র আরও একধাপ অগ্রসর হয়। ট্রেজারী ডিপার্টমেন্ট চারজন চীন-ভিত্তিক উত্তর কোরিয়ার নাগরিক এবং একজন রাশিয়া-ভিত্তিক উত্তর কোরিয়ার নাগরিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এই অভিযোগে যে, তারা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচির জন্য মালামাল সংগ্রহ করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেন যে উত্তর কোরিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে মোকাবেলা করতে যুক্তরাষ্ট্র “সকল উপযুক্ত পন্থা ব্যবহার করবে”, “যেই কর্মসূচিগুলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করে এবং বৈশ্বিক অস্ত্র সম্প্রসারণ রোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলে”।