অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

তালিবানের বিরুদ্ধে হাজারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৩জন সদস্যকে হত্যা করার অভিযোগ

লাঘমান প্রদেশের একটি রাস্তায় একটি গাড়ির উপর বসে আছে তালিবান যোদ্ধারা। ১৫ আগস্ট ২০২১।
লাঘমান প্রদেশের একটি রাস্তায় একটি গাড়ির উপর বসে আছে তালিবান যোদ্ধারা। ১৫ আগস্ট ২০২১।

ইসলামপন্থী দল তালিবান যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেবার দুই সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিরুদ্ধে ৩০শে আগস্ট হাজারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১৩ জন সদস্যকে বেআইনিভাবে হত্যা করার অভিযোগ করেছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন এক সংবাদ প্রতিবেদনে এই নজরদারি সংস্থাটি বলে নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক মেয়ে সহ ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকারের ১১ জন আত্মসমর্পণকারী সেনা ও দুইজন বেসামরিক লোক রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বহির্ভূত ঐ মৃত্যুদণ্ডগুলো উত্তর দাইকুন্ডি প্রদেশের খিদির জেলার কাহোর গ্রামে কার্যকর করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর তোলা ছবি ও ভিডিও নিশ্চিত করেছে অ্যামনেস্টি। তারা বলেছে তালিবানকে অবিলম্বে প্রতিশোধমূলক এই নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড প্রতিবেদনে বলেছেন, “ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে কার্যকর করা এই হত্যাগুলো প্রমাণ করে যে এর আগেরবার যখন তালিবান ক্ষমতায় ছিল সেসময় তারা যে ভয়াবহ নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত হয়েছিল, সেই একই নির্যাতন এবারও করছে”।

ভিওএর পক্ষ থেকে অ্যামনেস্টির প্রকাশিত এই তথ্য সম্পর্কে তা্লিবানের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কোন জবাব পাওয়া যায়নি।

আফগানিস্তানের ৩ কোটি ৬০ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে ৯ শতাংশ হচ্ছে হাজারা ও শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন। সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে খুব সহজেই ঐ সম্প্রদায়ের লোকেরা লক্ষ্যবস্তু হয়ে যায়।

তালিবান ইসলামপন্থি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ করা হয় যে ১৯৯৬-২০০১ সালের শাসনামলে তারা জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে।সেসময় তারা নারীদের সাধারণ জীবনযাপন ও বাইরে কাজ করা থেকে বিরত রাখে এবং মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণেও বাধা দেয়।

কিন্তু আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে, মৌলবাদী গোষ্ঠী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছে যে সব আফগানদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। যারা পশ্চিমা সমর্থিত ক্ষমতাচ্যুত সরকারের অধীনে কাজ করেছে তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে।

অ্যামনেস্টি দুঃখ প্রকাশ করে তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে “তালিবান বলছে যে তারা আগের সরকারের সাবেক কর্মচারীদের লক্ষ্যবস্তু করছে না, কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডগুলো তাদের ঐ দাবিকে ভুল প্রমাণিত করছে”।

তাদের শাসনের বৈধতা প্রদানের বিষয়ে তালিবানের আহ্বান উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলেছে যে তারা দেখতে চায় এই গোষ্ঠীটি মানবাধিকার, বিশেষ করে নারীদের অধিকার রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পূরণ করে কি না। সেইসঙ্গে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে কিনা সেটিও দেখতে চায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

This item is part of
XS
SM
MD
LG