আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের ফলে দেশটির মানবাধিকার সংকট ও মানবিক বিপর্যয় আরও ত্বরান্বিত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নতুন একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
সংঘাত-বিধ্বস্ত দরিদ্র দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইসলামী এই গোষ্ঠীটি দেশটিতে নারী অধিকারে হওয়া অগ্রগতি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে টেনে পেছনে নিয়ে গিয়েছে বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, বিশ্বব্যাপী অধিকার চর্চা বিষয়ে তাদের বার্ষিক পর্যালোচনায় অভিযোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই নজরদারি সংস্থাটির সহকারী এশিয়া পরিচালক, প্যাট্রিসিয়া গসম্যান দুঃখ প্রকাশ করেন, “আফগানরা তালিবান নির্যাতন ও অনাহারের আতঙ্কের মাঝে আটকা পড়েছেন”।
আফগানিস্তানের সকলের মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও, অন্তর্বর্তীকালীন তালিবান সরকার নারী স্বাধীনতা খর্ব করে একের পর এক নীতি ও আইন ঘোষণা করে গিয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বাইরে অন্য কোন কাজ করার বিষয়ে, আফগানিস্তানের নারীদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসাথে দেশব্যাপী মেয়েদের অনেক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ই বন্ধ রয়েছে। তালিবান ধর্মীয় পুলিশ নারীদেরকে বলেছে যে, তারা তাদের কোন পুরুষ অভিভাবক ছাড়া, প্রকাশ্যে চলাচল করতে পারবেন না, এবং ট্যাক্সিচালকদেরকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা শুধুমাত্র হিজাব বা স্কার্ফ পরিহিত নারীদেরকেই ট্যাক্সি পরিষেবা প্রদান করেন।
তালিবান কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত পোষণকারীদের উপরও চড়াও হয়েছে। গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কারণে, আফগানিস্তানের ৭০% টেলিভিশন ও সংবাদ প্রচারকারী সংস্থাগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
নারী অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকেই, গত দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক উপস্থিতির প্রধান অর্জন হিসেবে অভিহিত করা হত।
প্রধান তালিবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।