অ্যাকসেসিবিলিটি লিংক

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার তদন্ত চায় জাতিসংঘ

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ, ছবি- মুনিরুজ্জামান/ এফপি
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ, ছবি- মুনিরুজ্জামান/ এফপি

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার বিষয়ে দ্রুত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়াছেন। তিনি এই সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশে কক্সবাজার শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় এ কথা বলেন।

মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট বিশিষ্ট এই মানবাধিকার কর্মীকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। হাইকমিশনার বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কয়েক দশকের বৈষম্যের অবসান ঘটাতে তিনি তার জীবন কাটিয়েছেন। মিশেল ব্যাচেলেট বলেন, মিয়ানমারে জনগণের মৌলিক অধিকার, জাতীয়তা, ভূমি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার অধিকার পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে মুহিবুল্লাহ প্রাণ হারিয়েছেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির কুতুপালং এ বুধবার মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। যেখানে আট লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাস করে। মিয়ানমারে নিপীড়ন ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের আগস্টে শরণার্থীরা সেখানে পালিয়ে যায়।

হাই কমিশনারের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছে এবং এখনও তাদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পে বিভিন্ন দলের মধ্যে সহিংসতা, অপরাধমূলক কর্মকান্ড এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন , রোহিঙ্গা বিরোধী মনোভাবও বাংলাদেশের লোকজনের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রুপার্ট কলভিল বলেন, “যেই তার হত্যার জন্য দায়ী হোক না কেন, মুহিবুল্লাহর মৃত্যু শিবিরের নিরাপত্তাহীনতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ এবং মধ্যপন্থী নাগরিক সমাজের কণ্ঠকে চুপ করানোর আপাত প্রচেষ্টা”। হাইকমিশনার একটি দ্রুত, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন, যা কেবল তার হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা এবং তাদের উদ্দেশ্য প্রকাশ করতে নয়, বরং যাতে শিবিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরালো না করেই নাগরিক সমাজের ঝুঁকিগ্রস্ত নেতাদের আরও ভাল সুরক্ষার জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তা নির্ধারণ করা যায়।

কলভিল বলেন, হাইকমিশনার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয়দানে বাংলাদেশ যে বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তা বোঝেন। তা সত্ত্বেও, ব্যাচলেট দাবি করেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই কক্সবাজারে শরণার্থীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এটি দুর্গম দ্বীপ ভাসান চরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যেখানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা স্থানান্তরিত হয়েছে।

কলভিল বলেন, “এদিকে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থাকা প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থা আশঙ্কাজনক, এখনও অনেকে শিবিরে বন্দী। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক এবং উচ্চ মাত্রায় চাঁদাবাজি”।

কলভিল বলেন, এটা দুঃখজনক যে বিশ্বের মনোযোগ রোহিঙ্গা জনগণের দুর্দশা থেকে দূরে সরে গেছে। তিনি আরও বলেন, হাইকমিশনার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশে এবং মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাহায্যে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন।

This item is part of
XS
SM
MD
LG