পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের ধীরগতি গ্রহণযোগ্য নয়: যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস-গ্রীনফিল্ড, ছবি-এপি

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানকে পরমাণু বোমা থেকে নিবৃত্ত রাখার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ভিয়েনায় আলোচনায় ইরানকে "ধীরগতির" পারমাণবিক কূটনীতির অনুমতি দেওয়া যাবে না।

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস-গ্রীনফিল্ড জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, " আমরা নিশ্চিত যে ইরান যদি জরুরী এবং সরল বিশ্বাসের সাথে ভিয়েনায় আলোচনায় আসে, আমরা দ্রুত পারস্পরিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারি। তবে আমরা ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্বরান্বিত করতে এবং তার পারমাণবিক কূটনীতিকে ধীর গতিতে চলতে দিতে পারি না। এবং আমি দুঃখের সঙ্গে এ কথা জানাচ্ছি যে, ভিয়েনায় জেসিপিওএ এর আলোচনায় ঠিক তাই ঘটছে বলে আমি মনে করি।"

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে বাইডেন প্রশাসন চুক্তির অধীনে তার প্রতিশ্রুতিগুলির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ নিষেধাজ্ঞাগুলি প্রত্যাহার করার জন্য "সম্পূর্ণ প্রস্তুত"। যা আনুষ্ঠানিকভাবে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অফ অ্যাকশান (জেসিপিওএ) বা যৌথ সামগ্রিক কর্ম পরিকল্পনা হিসাবে পরিচিত। এতে ইরান চুক্তিতে উল্লেখকৃত অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।

টমাস-গ্রীনফিল্ড বলেছেন যে, ইরান পরমাণু এবং নিষেধাজ্ঞা উভয় ইস্যুতে নতুন পারমাণবিক উস্কানি এবং "অস্পষ্ট, অবাস্তব, এবং সর্বোচ্চ অগঠনমূলক অবস্থান" নিয়ে ২৯শে নভেম্বর আলোচনা শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করছে কারণ ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছিল। কিন্তু নিউইয়র্কে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত উভয়ই নিরাপত্তা পরিষদের একই টেবিলে বসেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের বৃদ্ধি, ইরানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি বলেন, "আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, ইরানের কর্মকাণ্ড ইরানকে আলোচনায় কোনো সুবিধা দেবে না বরঞ্চ ইরানের কার্যকলাপ নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলবে"।

ইরানের রাষ্ট্রদূত মজিদ তখত রাভাঞ্চি পরিষদকে বলেন, "সত্যি হল যে আমরা প্রায় চার বছর ধরে জেসিপিওএ এর অধীনে আমাদের অধিকার এবং সুবিধাগুলি থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত হয়েছি।"

তিনি বলেন, ইরানের জনগণ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব অনুভব করছে।

"আন্তর্জাতিক আইনের এই ধরনের চরম লঙ্ঘনের কারণে ইরানের জনগণ এবং অর্থনীতির উপর ক্ষতির মাত্রা এবং ব্যাপকতা গুরুতর,"।

তিনি আরো বলেন, ইরানকে অবশ্যই আশ্বস্ত করতে হবে যে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র আবার চুক্তি থেকে সরে আসবে না।