আফগানিস্তানে গত আগস্টে তালিবানের ক্ষমতায় ফিরে আসা এবং তারপর থেকে চলতে থাকা মানবিক বিপর্যয় বাইডেন প্রশাসনকে একটি উভয় সংকটে ফেলেছে: চরম ক্ষুধাপীড়িত দেশটিতে কিভাবে আন্তর্জাতিক সহায়তা সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায় এবং একই সময়ে এটা নিশ্চিত করা যায় যে সেই সহায়তার অর্থে যাতে তালিবান ও হাক্কানী নেটওয়ার্কের নেতারা আরও শক্তিশালী হয়ে না ওঠে ?
তালিবান কাবুলে ক্ষমতা দখল করলে তাদের অর্থযোগান বন্ধ করতে, বাইডেন প্রশাসন সে সময়ে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা আফগানিস্তানের সরকারের ৭০০ কোটি ডলারের রিজার্ভ আটকে দেয়।
১৯৯০ এর দশকে তালিবান প্রথমবার ক্ষমতায় আসলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু করেছিল। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা হয়। পরে অবশ্য সেই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র তালিবানের হাত থেকে আফগানিস্তানকে মুক্ত করে।
সেই সময়ে আফগানিস্তানে হামলা শুরুর মাত্র কয়েকদিন পরেই, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। সেই আদেশ অনুযায়ী তালিবান ও হাক্কানী নেটওয়ার্ককে বিশেষভাবে চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে এই দুই জঙ্গিগোষ্ঠীর সম্পদ আটক ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেয়। একই সাথে এই দুই গোষ্ঠীর সাথে ব্যবসা করাকে একটি অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
তবে এখন যখন আফগানিস্তানে কার্যত তালিবানই শাসনকর্তা, তখন এই বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার নয় যে ২০ বছর পুরনো এই বিধিনিষেধগুলো এখন কি দেশটির পুরো সরকারের উপরই বর্তায় নাকি শুধুমাত্র আগের নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখিত ব্যক্তিদের জন্যই কার্যকর।
আফগানিস্তানে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছতে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে এমন উদ্বেগ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আফগানিস্তানে কর্মরত এনজিও এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেশ মোটা দাগে বেশ কিছু ছাড় দিয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাস থেকে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ছয়টি “সাধারণ লাইসেন্স” প্রদান করেছে। এগুলো মূলত, সাধারণ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কার্যক্রমগুলো পরিচালনার অনুমতি প্রদান করে।
এই লাইসেন্সগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে খাদ্য ও কৃষি পণ্য সরবরাহ করতে, সরকারী হাসপাতালগুলোকে সহায়তা করতে এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের বেতন প্রদানের অনুমতি দেয়।
যদিও তালিবান ও হাক্কানী নেটওয়ার্কের কিছু কিছু কর্মকর্তা এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রয়েছে, তবুও এনজিও এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এখন তাদের সঙ্গে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী বলা যায় যে, কোন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ত্রাণ সহায়তা সমন্বয় করা, তাদের প্রকল্পের বিবরণী প্রদান করা ও দফতরের জায়গা ভাগ করার জন্য তালিবান কর্মকর্তাদের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে পারে।
তালিবান, হাক্কানী নেটওয়ার্ক ও তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাগুলোকে কোন এনজিও কর, দেনা ও আমদানি শুল্কও প্রদান করতে পারবে।
তবে যদিও এনজিওদেরকে তালিবান ও হাক্কানী নেটওয়ার্কের সাথে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোন ব্যক্তিকে অর্থ তহবিল প্রদানের বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের লাইসেন্সগুলোতে।
উপরন্তু এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় সুশীল সমাজের কার্যক্রমের কোনগুলোর অনুমতি রয়েছে সেই বিষয়টি এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
ক্রাউডফান্ডিং প্রতিষ্ঠান গোফান্ডমি, সাম্প্রতিক সময়ে একজন আফগান সাংবাদিকের আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত সংবাদ ওয়েবসাইটের তহবিল সংগ্রহের পেজটি বন্ধ করে দিয়েছে বলে শোনা যায়।
এ বিষয়ে মতামতের জন্য অনুরোধ করা হলে গোফান্ডমি কোন সাড়া দেয়নি।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টকে নিষেধাজ্ঞার পরিধি বিষয়ে জানতে চেয়ে ভিওএ প্রশ্ন করলে তাতেও সাড়া পাওয়া যায়নি।