বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, “বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না বলেই রাষ্ট্রপতি, সার্চ কমিটি এবং সংলাপকে অবজ্ঞা করছে। তাদের এ আচরণ দেশের গণতন্ত্রের জন্য, দেশের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সার্চ কমিটির কার্যক্রমকে “তামাশা” আখ্যায়িত করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ প্যানেলে নাম পাঠানো অর্থহীন।
হাসান মাহমুদের বক্তব্য
হাসান মাহমুদ বলেন, “আসলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে ধ্বংস করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া আর ফেরেশতাও যদি তাদেরকে (বিএনপি) নির্বাচনে জয়লাভের নিশ্চয়তা না দেয় তার আগ পর্যন্ত তারা নির্বাচন মানবে না-এই তাদের উদ্দেশ্য।”
বুধবার (১৬ ফেব্রয়ারি) সকালে ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মিলনায়তনে ঢাকা ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল-২০২০ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের০ জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সার্চ কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বসে তাদের কাছ থেকে নাম নিয়ে একটি অসাধারণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, যা দেশের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, “প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমতাটা সার্চ কমিটির হাতে দিয়েছেন। সার্চ কমিটি সেখান থেকে বাছাই করে ১০ জনের নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন, যেখান থেকে তিনি পাঁচজনকে নিয়োগ দেবেন। বিএনপির ঘরোনা বুদ্ধিজীবীরাও সার্চ কমিটিকে বলেছেন, বিএনপির আসা প্রয়োজন, কিন্তু বিএনপি শুরু থেকেই পুরো প্রক্রিয়াকেই না করেছে।”
তিনি বলেন, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সার্চ কমিটি যেভাবে কাজ করছে এ জন্য তারা সত্যিকার অর্থেই দেশবাসীর ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকার রাখে এবং ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এমনকি কন্টিনেন্টাল ইওরোপের বিভিন্ন দেশেও এত অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয় না।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য
মির্জা ফখরুল বলেন, “এর (সার্চ কমিটি) কার্যক্রমে রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নেই। এটির একমাত্র উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি আইওয়াশ।”
বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না। তাই বিএনপি মনে করে সার্চ কমিটিতে নাম পাঠানো এবং নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পূর্ণ অর্থহীন।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সার্চ কমিটির মাধ্যমে গত দুবারের মতো নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে, যাতে ক্ষমতাসীন দলকে অতীতের মতোই নির্বাচন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়া হয়। বিএনপি মনে করে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় থাকা অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো অবস্থাতেই একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব না।”
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপি মনে করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং এভাবে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠাই দেশের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায়।”