ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ, অভিবাসন, নিরাপত্তা এবং টিকার অসম লভ্যতা আলোচনার মুখ্য বিষয়বস্তু হবে। বৃহস্পতিবার আফ্রিকার কয়েক ডজন রাষ্ট্রপ্রধান সম্মেলনটিতে যোগ দিতে ব্রাসেলসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন।
ইউরোপের প্রায় ৭০% অধিবাসীই করোনাভাইরাস টিকার অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। অন্যদিকে আফ্রিকায় এ সংখ্যা মাত্র ১৬%। এই অসমতার বিষয়টি শীর্ষ বৈঠকের আলোচ্যসূচীর উপরের দিকে রয়েছে।
আফ্রিকায় বিনিয়োগও বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক ইইউ।
পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির পথে অগ্রসরমান ইউরোপ তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখী করতে চায়। এর মধ্যে ব্যাটারী প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল মৃত্তিকা ধাতুও অন্তর্ভুক্ত। আফ্রিকায় এমন কাঁচামালের প্রচুর মজুদ রয়েছে। ইইউ “গ্লোবাল গেটওয়ে” নামের ৩০ কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল উন্মোচন করে, যেটি কর্মসংস্থান, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর জন্য বিনিয়োগ করা হবে।
হর্ন ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর পরিচালক, হাসান খান্নেনজে বলেন যে, ইউরোপের আলোচনায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনাও প্রাধান্য পাবে। ইন্সটিটিউটটি কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত।
বুধবার প্রকাশ করা তথ্যে দেখা গিয়েছে যে, আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহামারীর চরম পর্যায়ে এই সংখ্যা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছিল।
আফ্রিকার নিরাপত্তা বিষয়েও আলোচনা হবে। উত্তর ইথিওপিয়ায় চলমান যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছে। এছাড়াও মালি, মোজাম্বিক, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, নাইজেরিয়া এবং সোমালিয়াতেও বিদ্রোহের ঘটনা ঘটছে।
অপরদিকে, সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে মালি, গিনি, সুদান এবং বুরকিনা ফাসোর আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
খান্নেনজে বলেন যে, সামরিক অভ্যুত্থানগুলো অন্তর্নিহিত দূর্বলতার কারণে সংঘটিত হয়েছে।
সম্মেলনে যোগ দেওয়া বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নন। সমালোচকরা বলেন যে, মিশরের আবদেল-ফাত্তাহ এল সিসি’র মত এমন স্বৈরতান্ত্রিক শাসকদেরকে ইউরোপের এভাবে সাদর অভ্যর্থনা জানানো উচিৎ নয়।