প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার পর বৃহস্পতিবার স্টকের মূল্য কমেছে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ ডলারেরও বেশি বেড়েছে।
পুতিনের অনুপ্রবেশ কত বিশাল হবে এবং পশ্চিমা প্রতিশোধের মাত্রা কতটা হবে তা বোঝার চেষ্টায় ইউরোপ এবং এশিয়ায় বাজারের নির্ধারিত মান ৪ শতাংশ কমে গেছে।
বিশ্বের ৩নং তেল উৎপাদক দেশ রাশিয়া থেকে সরবরাহের সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কায় ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো লন্ডনে ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
ডলারের বিপরীতে রুবেলের মূল্য ৭.৫ শতাংশ কমেছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার ওপর "ব্যাপক এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিষেধাজ্ঞা" আরোপের পরিকল্পনা করেছে।
পুতিন বলেছেন যে রাশিয়াকে পূর্ব ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে। ইউক্রেন আক্রমণকে ন্যায্যতা দেয়ার জন্য রাশিয়া এমন দাবি করবে বলে ওয়াশিংটন আগেই ধারণা করেছিল।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই হামলাকে "প্ররোচনাহীন এবং অযৌক্তিক" বলে নিন্দা করে বলেছেন মস্কোকে এর কৈফিয়ত দিতে হবে। এর মানে ওয়াশিংটন এবং তার মিত্ররা আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।
ওয়াশিংটন, ব্রিটেন, জাপান এবং ইইউ এর আগে রাশিয়ার ব্যাংক, কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর বাইরে বিকল্প পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে রাশিয়াকে ব্যাঙ্ক লেনদেনের জন্য বৈশ্বিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক নির্ধারিত মান অনুযায়ী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
ব্রেন্ট ক্রুড ১০০ ডলারের ওপরে বেড়ে যাওয়ার পরে লন্ডনে ব্যারেল প্রতি ৫.৫৭ ডলার থেকে ৯৯.৬২ ডলার বেড়েছে।
পূর্বাভাসকারীরা বলছেন, এশিয়ার অর্থনীতি ইউরোপের তুলনায় কম ঝুঁকির সম্মুখীন, তবে রাশিয়ার সরবরাহ ব্যাহত হলে যাদের আমদানি করা তেলের প্রয়োজন তাদের উচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে হতে পারে।
ভারতের সেনসেক্স ৩.৪ শতাংশ কমে ৫৫,২৮৩.৬৫ এ দাঁড়িয়েছে। নিউজিল্যান্ড ৩.৩ শতাংশ হারিয়েছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারগুলোও পড়ে গেছে।
বুধবারের ১১৪.৯৮ ইয়েন থেকে ডলার ১১৪.৬৮ ইয়েনে কমে গেছে। ইউরো ১.১৩০৬ ডলার থেকে ১.১২৪৩ ডলারে নেমে এসেছে।