কিয়েভের উপর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে রাশিয়া

ইউক্রেনের খারকিভের সিটি হল ভবনে গোলাবর্ষণের পরে কেন্দ্রীয় স্কোয়ারের একটি দৃশ্য। মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২।

ছয় দিন আগে ক্রেমলিন প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইউক্রেনে আক্রমণের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মঙ্গলবার রাশিয়া এবং ইউক্রেন এই প্রথম তাদের মধ্যে বন্দী বিনিময় শুরু করে। তবে এই বন্দি বিনিময়ের দিনটিতেই রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেন জুড়ে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দিলে, সেখানে আরও বিপর্যয় নেমে আসে ও ধ্বংসের মাত্রা বেড়ে যায়। রাশিয়ার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেসামরিক অবকাঠামো, কিয়েভের বিখ্যাত প্রধান টিভি টাওয়ার; ভেঙ্গে পড়ে সেখানকার যোগাযোগ বাবস্থা।

ইউক্রেনিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাওয়ারে ওই হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। এক টুইট বার্তায়, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বলেছে, কিছু ইউক্রেনীয় চ্যানেল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এ ধরনের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি থাকা লোকেদের সতর্ক করে ওই এলাকা ছেড়ে যেতে বলেছে। মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভ বলেছেন, "আমরা... আক্রমণস্থলে পালা পরিবর্তনের সংযোগস্থলের কাছাকাছি বসবাসকারী কিয়েভের বাসিন্দাদের তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

ওয়াশিংটন, ডিসি-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, সিএনএ-এর বিশ্লেষক মাইকেল কফম্যান বলেছেন, "এখন পর্যন্ত রাশিয়ান অভিযানের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে, তারা রসদ এবং যোগাযোগের ব্যাপারে প্রচণ্ড সমস্যায় ভুগছে।পুরো প্রচেষ্টাই যেন ভেঙ্গে পড়ছে।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা এখন পর্যন্ত ৫,৮০০ রুশ সেনাকে হত্যা করেছে। সোমবার যে সমস্ত রাশিয়ান সৈন্য আত্মসমর্পণ করছে, ইউক্রেন তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং নগদ অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা এই সপ্তাহে আবার শুরু হতে চলেছে, তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকি মঙ্গলবার বলেছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনও অর্থবহ আলোচনা শুরু হওয়ার আগে রাশিয়াকে অবশ্যই ইউক্রেনের শহরগুলিতে বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে। জেলেন্সকি ইউক্রেনে রাশিয়ার বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণ কমাতে নেটো সদস্যদের একটি নো-ফ্লাই জোন আরোপ করারও আহ্বান জানান।

রাশিয়ান সামরিক বাহিনী আরও হতাহতের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। বেলারুশের একজন নার্স ভিওএ-কে বলেছেন, ইউক্রেনের সীমান্তের কাছাকাছি উপচে পড়া আহত রাশিয়ানদের নেওয়ার জন্য বেলারুশিয়ান বেসামরিক হাসপাতাল এবং সীমান্ত থেকে আরও কিছুটা দূরের হাসপাতালগুলোতে নিয়ে যাবার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

রাশিয়ান বাহিনী কিইভের চারপাশে বাধাগ্রস্ত হলেও, দক্ষিণের দিকে তারা ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে এবং বন্দর নগর মারিউপোল দখল করার হুমকি দিচ্ছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার একটি ট্যাঙ্ক আক্রমণ প্রতিহত করে দিয়েছে এবং মারিউপোলে ছয় রাশিয়ান সেনাকে বন্দী করেছে। শহরের স্থানীয়রা বলছেন, তারা কোনও ইউক্রেনীয় টেলিভিশন চ্যানেল দেখতে পাচ্ছেন না, তাই তারা কেবলমাত্র রাশিয়ান পক্ষের সংবাদ পাচ্ছেন। এছাড়া তাদের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে বলেও তারা ভিওএ-কে জানিয়েছেন।