ইরানের ইউরেনিয়ামের মওজুদ সম্পর্কে জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থার হুঁশিয়ারি 

.ফাইল ছবি, ভিয়েনায় আই-এ-ই-এ -এর সদর দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভবনে উত্তোলিত ইরানের পতাকা, ২৪শে মে, ২০২১/রয়টার্স

জাতিসংঘের পরমাণু নজরদারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা বা (IAEA) বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যে ২০১৫ সালে ইরান বিশ্ব শক্তিবর্গের সঙ্গে ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণের মাত্রা সম্পর্কিত যে চুক্তি সম্পাদন করে, তারা সেই সীমা ছাড়িয়ে ইউরেনিয়ামের মওজুদ বৃদ্ধি করেছে এবং সেই সঙ্গে তারা পরমাণু অস্ত্র নির্মাণের পথে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।

সদস্য দেশগুলোর কাছে আইএইএ তাদের ত্রৈমাসিক গোপনীয় প্রতিবেদনে জানায় ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতা সম্পন্ন ৩৩ দশমিক ২ কিলোগ্রাম পরিশোধিত ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা কিনা নভেম্বর মাস থেকে ১৫ দশমিক ৫ কিলোগ্রাম বেশি।

এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে পরিশোধিত করে খুব সহজেই পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ করা যায়। দ্য এসোসিয়েটেড প্রেসের মতে ইরানের ৩৩ দশমিক ২ কিলোগ্রাম পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের মওজুদ অস্ত্র নির্মাণযোগ্য মানের ইউরেনিয়ামের কাছাকাছি তাদেরকে নিয়ে গেছে, যা অস্ত্র নির্মাণে সক্ষম।

আন্তর্জাতিক পরমাণু জ্বালানি সংস্থা (IAEA) এর রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৯শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ইরানের কাছে পরিশোধিত ইউরেনিয়ামের সব ধরণের মৌজুদ ছিল ৩ দশমিক ২ মেট্রিক টন, যা আগের তুলনায় ৭০৭ দশমিক ৪ কিলোগ্রাম বেশি।

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মূল স্বাক্ষরদানকারী উর্ধ্বতন কূটনীতিকেরা যখন ভিয়েনায় নভেম্বর থেকে জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন বা JCPOA পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছিলেন তখনই এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হলো।

আই-এ-ই-এ -এর মহা পরিচালক রাফায়েল গ্রসি বলেছেন, ইরানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে শনিবার তিনি ভিয়েনা সফর করবেন। ,

আই-এ-ই-এ জানায় তাদের ওপর ইরানের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইউরেনিয়ামের এসব সর্বসাম্প্রতিক পরিসংখ্যান যাচাই করা সম্ভব হয় নি, তবে তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আলোচকদের সময় হয়তোবা ফুরিয়ে আসছে।

[এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি, এএফপি ও রয়টার্স থেকে নেয়া]