যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে প্রতিহত করে ভারত রাশিয়ার ব্যাপারে নিরপেক্ষ রয়েছে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে একটি বৈঠকের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানাচ্ছেন। ৬ ডিসেম্বর, ২০২১, ছবি-এএফপি

কিছু বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও, ভারত ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দায় পশ্চিম এবং অন্যান্য দেশগুলির সাথে যোগ দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের চাপকে প্রতিরোধ করছে। ভারতে এই সময়ে মস্কোকে বিচ্ছিন্ন করতে ভয় পাচ্ছে যখন নতুন দিল্লি বেইজিংকে তার বিরুদ্ধে প্রধান হুমকি হিসাবে দেখছে।

ভারত গত সপ্তাহে জাতিসংঘে তার অবস্থানে দৃঢ় ছিল, রাশিয়ার আগ্রাসনের "নিন্দা" জানিয়ে সাধারণ পরিষদের ভোট এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব উভয় থেকেই বিরত ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে ভারত চায় না ইউরোপের ঘটনাগুলি তার নিজস্ব চ্যালেঞ্জিং নিরাপত্তা পরিবেশ থেকে তাকে বিক্ষিপ্ত হোক। সে তার উত্তর সীমান্তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীন এবং পাকিস্তানের মুখোমুখি এবং যেখানে বেইজিং সীমানাবিহীন হিমালয় বরাবর ভারতকে চাপ দিচ্ছে, এবং একটি বিশাল আকার সৈন্য বাহিনী সেখানে অবস্থান নিয়েছে।

চীনকে নিবৃত্ত করা

কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, ভারত রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করলে তা মস্কোকে চীন ও পাকিস্তানের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে, যা কিনা নতুন দিল্লিকে একটি প্রতিকূল অবস্থানে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে রাখবে। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার মুখোমুখি হয়ে, ভারত মস্কো থেকে প্রদত্ত সামরিক পণ্য সরবরাহে কোনো বিরতি রাখতে পারে না। রুশ সামরিক পণ্য ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ব্যবস্থার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ।

নয়াদিল্লি ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট ফেলো মনোজ জোশী বলেছেন, " চীন-পাকিস্তান-রাশিয়ার সম্পর্ক আরও শক্ত হচ্ছে ভারত সেটা দেখতে চায় না। যদি তা ঘটতে থাকে, তবে রাশিয়া, উদাহরণস্বরূপ, ভারতকে অস্ত্র না দেওয়ার জন্য বেইজিংয়ের চাপের মুখোমুখি হতে পারে, যে অস্ত্র চীনের হুমকি মোকাবেলায় ভারতের খুবই প্রয়োজন। সুতরাং, রাশিয়ার স্বার্থ জড়িত থাকলে ভারত অন্য দিকে মোড় নেয়া সুবিধাজনক বলে মনে করে।"

ইউক্রেন নিয়ে সঙ্কট শুরু হওয়ার আগেই, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার হুমকি সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ক্রয় নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল কারণ নতুন দিল্লি এটিকে চীনের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ বলে মনে করে।

ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক

মাত্র দুই মাস আগে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের সফর করেছিলেন, যেখানে দুটি দেশ একটি ১০ বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং ভারতে রাইফেল তৈরির একটি প্রস্তাবকে নিশ্চিত করেছে।

বিশ্লেষকরা ১৯৬০ এর দশকে মস্কোর সাথে ভারতের "ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা" উদ্ধৃত করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে রাশিয়া বারবার আন্তর্জাতিক ফোরামে ভারতকে সমর্থন করেছে। এর মধ্যে ছিল ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সৃষ্টিতে সমর্থন করা, জাতিসংঘে কাশ্মীর নিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করার সময় তার ভেটো ব্যবহার করা এবং ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা ।