জাতিসংঘ ও মালাউই'র অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলো গ্রীস্মমন্ডলীয় ঝড় "আনা"তে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সাহায্যার্থে আগামী ৩ মাসের জন্য ২কোটি ৯৪ লক্ষ ডলার সাহায্যের জরুরি আবেদন জানিয়েছে। মালাউইতে জাতিসংঘের টিম শুক্রবার বলেছে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি জেলায় প্রায় ৬,৮০,০০০ লোকের মানবিক সহায়তা এবং সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
গ্রীস্মমন্ডলীয় ঝড়, আনা যা মাদাগাস্কার,মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে আঘাত হানে এবং জানুয়ারির শেষে দক্ষিণাঞ্চলীয় মালাউই'র কতগুলো শহরের ভেতর দিয়ে বয়ে যায়, যার ফলে সহস্রাধিক লোক গৃহহীন হন।
মালাউই রেড ক্রসসহ ৪৪টি সংস্থা সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ৭টি রাষ্ট্রীয় বেসরকারি সংস্থা, ২৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ১০টি জাতিসংঘের সংস্থা।
শিগেকি কমাত্সুবারা মালাউইতে অবস্থিত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী। তিনি বলেন,
“মালাউইতে আমরা, জাতিসংঘের এই দেশীয় টিম, এই আবেদনকে অগ্রাধিকার ও তার নীতিমালা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করেছি এবং আমরা নিশ্চিত যে পরিকল্পিত কর্মতৎপরতায় থাকছে যাদের সবচাইতে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে তাৎক্ষণিক সাহায্য জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করা।
সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে যে দেশের ২৮টি জেলার মধ্যে ২৭টি জেলায় ৯,৯০,০০০ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সংস্থাটি জানায় সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত ৭টি শহর, যেমন চিকওয়াওয়া, নাসাঞ্জে, ফালম্বে, মুলাঞ্জে, চিরাদজুলু এবং বালাকা, যেখানে আনুমানিক ৬,৮০,০০০ লোক বসবাস করেন, তাদের মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষার প্রয়োজন।
ইউনিসেফ, জাতিসংঘ, মহিলা,জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীসহ জাতিসংঘের কতিপয় সংস্থা ও সংগঠনসমূহ ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের সেবায় এগিয়ে এসেছে, বিশেষত উদ্ধারকৃত লোকজন যেখানে বসবাস করছেন সেই শিবিরগুলোতে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যাকিনা লামিক বলেন, তাদের এখন প্রয়োজন কম্বল, রান্নার সরঞ্জাম, খাদ্য এমনকি অর্থও, যা দিয়ে তারা কেনাকাটা করতে পারেন, শিবিরে যা পাওয়া যাচ্ছে না। জাতিসংঘের সংস্থাটি জানায় গ্রীস্মমন্ডলীয় ঝড়ে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সহায়তা করেছেন তাকে তারা স্বাগত জানান।
এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি সহায়তা তহবিলের ৩০ লক্ষ ডলার যা কীনা মালাউই'র মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাবদ দেয়া হয়েছে।